Advertisement
৬টা বাজলেই ঘরবন্দি! কষ্ট ভুলতে রোজ মদ্যপান, মৃত্যুর আগে প্রাক্তনের কাছে ফেরেন এই অভিনেত্রী
অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা তাঁকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন ছিল একাকীত্ব ও সংগ্রামে ভরপুর। প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেত্রীর কষ্টির কাহিনি শুনলে চোখে জল আসবে।
হিন্দি সিনেমার একজন প্রবাদপ্রতীম শিল্পী প্রয়াত অভিনেত্রী মীনা কুমারী। ট্র্যাজেডি কুইন হিসেবেই সকলের কাছে বিশেষ পরিচিত। হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগে অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা তাঁকে খ্যাতির শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল। জীবদ্দশায় একগুচ্ছ হিট ছবি দর্শককে উপহার দিয়েছেন, যা যুগে যুগে সমাদৃত। ঝুলিতে রয়েছে একাধিক পুরস্কার।
১৯৭২ সালে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি মারা যান। রেখে গিয়েছেন এক অমলিন উত্তরাধিকার, যা আজও ক্লাসিক হিন্দি সিনেমাকে সমৃদ্ধ করে। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করত। ৯০টি ছবিতে ওঅভিনয় করেছিলেন। ঝুলিতে রয়েছে চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। প্রত্যেকটি সফল নায়কই তাঁর বিপরীতে কাজ করার ইচ্ছপ্রকাশ করতেন।
তিনি শুধু একজন অসাধারণ অভিনেত্রীই ছিলেন না, ডাকসাইটে সুন্দরী বললেও বোধহয় কম বলা হয়। কিন্তু, সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবন ছিল একাকীত্ব ও সংগ্রামে ভরপুর। 'ট্র্যাজেডি কুইন' তকমা যে সত্যিই বাস্তবায়িত হয়ে যাবে তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি স্বয়ং মীনা কুমারী!
মাত্র ১৮ বছর বয়সে পরিচালক কমল আমরোহীর প্রেমে পড়েন। মীনা কুমারীর থেকে বয়সে প্রায় দ্বিগুণ বড়। শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন বিবাহিত এবং তিন সন্তানের পিতা। ১৯৫২ সালে তাঁরা গোপনে নিকহা সারেন। সত্যি প্রকাশ্যে আসতেই সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। আর তখন থেকেই মীনা কুমারীর কেরিয়ার ধ্বংসের সূত্রপাত।
নতুন ছবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধা দিতেন। মেকআপ রুমে কাউকে ঢুকতে দিতেন না এবং সন্ধ্যা ছ'টার মধ্যে বাড়ি ফেরার কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি তখন বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, তবুও সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যাওয়ার স্বাধীনতা ছিল না। তবুও ভালোবাসার টানে স্বামীর সব কথা শুনে সংসার করতেন মীনা।
অবশেষে ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য। বিচ্ছেদের পর রাতে অনিদ্রার জন্য অল্প পরিমাণ ব্র্যান্ডি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। অল্প সময়ের মধ্যেই লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন। সেই সময় চিকিৎসক তাঁকে মদ ছুঁতে বারণ করেছিলেন। কারণ একফোঁটা মদও প্রাণঘাতী হতে পারে। কিন্তু তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে নিয়মিত মদ্যপান করতেন।
বিবাহিত জীবনে ইতি টানার কারণে ১৪ বছর 'পাকিজা' ছবির কাজ স্থগিত ছিল। দাম্পত্য শেষ হওয়ার পর প্রাক্তন স্বামী-পরিচালক কমল আমরোহী তাঁকে চিঠি লিখে ছবিটি শেষ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু, ততদিনে শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত, চেহারার ভোল পুরো বদলে গিয়েছিল। তখন স্ক্রিনে কেমন দেখাবে তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন মীনা কুমরী।
জীবনের সেই কঠিন সময়ে পাশে পেয়েছিলেন সুনীল দত্ত ও নার্গিসকে। অসুস্থতায় শরীর ফুলে গেলেও সেই অবস্থাতেও একজন পেশাদার শিল্পীর মতো ক্যামেরার সামনে যথেষ্ট সাবলীল অভিনয় করে সর্বকালের অন্যতম সেরা ছবি হিসেবে দর্শকের হৃদয়ে রয়ে গিয়েছে।
১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছবিটির প্রিমিয়ারে তিনি প্রাক্তন স্বামী কমলের সঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখার সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। নিজেকে দেখে নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি স্ক্রিনে তাঁকে এতটা সুন্দর দেখানো সম্ভব! শেষবারের মতো নিজেকে এভাবে পর্দায় দেখছিলেন মীনা কুমারী।
তাঁর মৃত্যু ছিল ভীষণই বেদনাদায়ক। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে মীনা কুমারী মারা যান। জীবনের শেষ দিনগুলিতে আর্থিকভাবে লড়াই করছিলেন এবং আপনি জেনে অবাক হবেন যে তাঁর মৃত্যুর পরে পরিবার হাসপাতালে ৩৫০০ টাকাও দিতে পারেনি। পরিচালক বিমল রায়ের মেয়ে রিঙ্কি রায় ভট্টাচার্য, একবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘অভিনেত্রীর মৃত্যুর দিন লাশ নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৩৫০০ টাকা ছিল না।’
Published By: Kasturi KunduPosted: 06:07 PM Apr 30, 2026Updated: 06:10 PM Apr 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
