Advertisement
'পিতা স্বর্গঃ...', গ্যাস সিলিন্ডার বয়ে দিন-গুজরান, কীভাবে বাবাকে 'ভুল' প্রমাণ করেই উত্থান রিঙ্কুর?
রিঙ্কুর বাবার প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিংরা।
'পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ পিতা হি পরমং তপঃ'। সন্তানকে বড় করে তোলায় নীরবে পরিশ্রম করে চলেন বাবা। বিশ্বকাপ চলাকালীন সেই বাবাকেই হারালেন ভারতীয় ক্রিকেটার রিঙ্কু সিং। যিনি দিন-রাত এক করে পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ না করলে রিঙ্কু সিংকে পেত না ক্রিকেট দুনিয়া।
শুক্রবার সকালে গ্রেটার নয়ডার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন খানচাঁদ সিং। মঙ্গলবারই ভারতীয় শিবির থেকে ছুটি নিয়ে বাবাকে দেখতে গিয়েছিলেন রিঙ্কু। সেটাই যে শেষ দেখা হবে, তা হয়তো ভাবতে পারেননি ভারতের তারকা ব্যাটার।
এক বছর আগে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন রিঙ্কুর বাবা খানচাঁদ সিং। গত এক বছরে সমস্যা বাড়তে বাড়তে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে গ্রেটার নয়ডার এনসিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত কয়েকদিন সেখানেই ভর্তি ছিলেন।
গত কয়েকদিন একপ্রকার যমে-মানুষে টানাটানি চলছিল। তিনি মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও ‘কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’-তে ছিলেন। শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় খানচাঁদ সিংয়ের।
গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেট সার্কিটে উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে রিঙ্কুর। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবেও স্বচ্ছ্বল হয়েছে রিঙ্কুর পরিবার। উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যিনি গ্যাস সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন। এমনকী রিঙ্কু ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরও তাঁকে এই কাজ করতে দেখা গিয়েছিল।
খানচাঁদ সিং আলিগড়ে বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার ডেলিভারি করতেন। আর্থিক অভাবে রিঙ্কুর এক ভাই অটো রিকশা চালানোর কাজও করেছেন। আর রিঙ্কু ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি জায়গায় ঝাড়ুদারের কাজ করতেন। কিন্তু ক্রিকেট ছিল তাঁর একমাত্র ভালোবাসা। অভাব সত্ত্বেও খানচাঁদ রিঙ্কুর ক্রিকেট অভিযানে কখনও বাধা পড়তে দেননি।
রিঙ্কুর ক্রিকেট জীবনের পথও সোনায় বাঁধানো ছিল না। পাঁচ-ভাই বোনের সংসারে অভাব-অনটনের সঙ্গে মিতালি গড়েই জীবনের চলার পথ গড়তে হয়েছে বাঁ-হাতি এই ক্রিকেটারকে। মাসে ১২ হাজার টাকা ছিল তাঁর মাসিক আয়। রিঙ্কু কি ক্রিকেট খেলে কেরিয়ার গড়তে পারবেন? খানচাঁদ সিংয়ের মনে একটা ভয় ছিল।
আসলে সব বাবাই তো চিন্তায় থাকে, সন্তান যেন তাঁর মতো কষ্টে না থাকেন। কিন্তু স্থানীয় ক্রিকেটে ম্যাচের সেরা হওয়ার পর তাঁর সংশয় ক্রমে বিশ্বাসে পরিণত হয়। ধৈর্য, শৃঙ্খলায় সাফল্যের বীজমন্ত্র দিয়েছিলেন তিনি। আবার এটাও বুঝিয়েছিলেন সাফল্য সত্ত্বেও কীভাবে পা মাটিতে রাখতে হয়।
বহু লড়াই করে রিঙ্কুর উত্থান। একসময় ৫০ লক্ষ টাকায় কেকেআরে খেলতেন রিঙ্কু। এখন সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ২৮ কোটি টাকা। তবে হাতে কোটি কোটি টাকা আসার পরও পরিবারকে ভুলে যাননি রিঙ্কু। বাবাকে ৫ লক্ষ টাকার বাইক কিনে দিয়েছিলেন। আর তারকা ক্রিকেটারের বাবা হওয়া সত্ত্বেও ওই বাইকে করে তিনি অফিসে যেতেন।
Published By: Arpan DasPosted: 04:55 PM Feb 27, 2026Updated: 04:55 PM Feb 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
