Advertisement
টাকার অভাবে বিয়ে হচ্ছিল না, মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে হাতে হিরে ৭ শ্রমিকের! বদলাবে দেশের ভাগ্যও?
রাতারাতি ভাগ্যবদল বোধ হয় একেই বলে। ৭ শ্রমিক। প্রত্যেকেরই বাড়িতে চরম আর্থিক অনটন। জনা তিনেকের বিয়েও হচ্ছিল না টাকার অভাবে। স্রেফ মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে তাঁরা এমন এক অমূল্য রতনের সন্ধান পেলেন, যাতে রাতারাতি তাঁদের ভাগ্য বদলে যাবে। পরিত্যক্ত একটি খনি থেকে ১৭.৯৬ ক্যারেটের একটি বহুমূল্য হীরে পেয়েছেন তাঁরা। যার বর্তমান বাজার মূল্য অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা।
মধ্যপ্রদেশের পান্না হিরের খনির জন্য বিখ্যাত। বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলের এই এলাকা হিরের শহর নামে পরিচিত। বহু খননকারী বছরের পর বছর চেষ্টা করে মাটি তোলপাড় করে হিরের সন্ধান চালান এখানে। কিন্তু অনেকেই বিফল মনোরথ হয়ে ফেরেন। আবার কারও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে অল্প পরিশ্রমেই মেলে অমূল্য রতনের সন্ধান। যেমনটা পেয়ে গেলেন পান্নার সারোখা গ্রামের সাত শ্রমিক।
দু'বছর আগে পান্নার সারোখা গ্রামে একটি খনি ইজারা নিয়েছিলেন অখিলেশ পাল-সহ সাত শ্রমিক। এই এলাকায় এই পোড়ো জমিগুলি সচরাচর ধনী ব্যবসায়ীরা ইজারা নেন। তারপর সেখানে খনন চালানোর জন্য শ্রমিকদের দৈনিক খরচে নিয়োগ করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা হীরের সন্ধান পেলেও তাঁরা লাভবান হন না। লাভটা হয় ইজারাদারের। তবে এক্ষেত্রে জমির ইজারা নিয়েছিলেন এই সাত শ্রমিকই।
দীর্ঘদিন খনন করেও কোনো মূল্যবান পাথরের সন্ধান না পাওয়ায় এক বছর খনিটি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পাশের আরেকটি খনিতে কাজ শুরুর পর পুরোনো খনি পর্যবেক্ষণে যান ৭ শ্রমিক। বর্ষায় বৃষ্টির মধ্যে অখিলেশের চোখে পড়ে পাথরের মধ্যে কী একটা চকচক করছে। সেটা হাতে নিয়েই তাজ্জব বনে যান তাঁরা। পরে দেখা যায় সেটা ১৭.৯৬ ক্যারেটের বহুমূল্য হীরে। যার বাজারমূল্য অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ওই হীরাটি একেবারে সর্বোচ্চ মানের। দেশ-বিদেশের বহু ব্যবসায়ী এই ধরনের হীরে কিনতে আগ্রহী। নিয়ম অনুযায়ী, আপাতত হীরেটি একটি সরকারি সংগ্রহশালায় রয়েছে। এবার সরকারি উদ্যোগেই সেটিকে নিলামে তোলা হবে। সব ঠিক থাকলে অক্টোবর মাসেই হীরাটি নিলামে উঠবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে বিক্রির অর্থ থেকে ১২ শতাংশ রয়্যালটি কেটে নেওয়ার পর বাকি অর্থ সাত শ্রমিকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ হবে।
এই অর্থ তাঁদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে তিন শ্রমিক জানিয়েছেন, দারিদ্র্যের কারণে এতদিন বিয়ে করতেও পারেননি তাঁরা। এবার সেই স্বপ্নপূরণ হবে। কারও ঘরবাড়ি নেই। কারও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে সমস্যা হচ্ছে। সকলেই এই হীরে বেচে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছেন। তাঁদের আশা, শুধু ওই একটি হীরে নয়। যেখানে এই হীরে পাওয়া গিয়েছে সেখানে খুঁড়লে হয়তো আরও হীরে মিলতে পারে।
শুধু ওই ৭ শ্রমিক নন। ওই পান্না এলাকার শ্রমিকরা মাঝে মাঝেই হীরের সন্ধান পান। এর আগে এই এলাকার একই আদিবাসী পরিবার পর পর দু'বার বহুমূল্য হীরে পেয়েছিল। যার একটির দাম ছিল প্রায় ৯৩ লক্ষ টাকা। আরেকটির দাম ৩০ লক্ষ টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই এলাকায় বড় হীরের খনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুসন্ধান করলে আগামী দিনে দেশের ভাগ্যও বদলে যেতে পারে।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:57 PM Aug 13, 2026Updated: 04:57 PM Aug 13, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
