Advertisement
গরমে বাড়ছে হাসপাতালে ভিড়! এই ৮ রোগের লক্ষণ দেখলেই হোন সতর্ক
তীব্র গরম, আর্দ্রতার সঙ্গে এ সময় দূষিত খাবার ও জল ডেকে আনতে পারে একাধিক রোগ। হিটস্ট্রোক থেকে ডেঙ্গি, ফুড পয়জনিং থেকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন, গরমে সামান্য অসতর্কতাই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে আগে থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। জেনে নিন গরমে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ৮টি রোগ, তাদের উপসর্গ এবং প্রতিরোধের সহজ উপায়।
হিটস্ট্রোক: প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘক্ষণ থাকলে শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা থাকে। মাথা ঘোরা, বমিভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, মাথাব্যথা এবং শরীর খুব গরম হয়ে যাওয়া এর প্রধান লক্ষণ। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এর থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জল পান করুন। ডাবের জল, লেবুর শরবত, ওআরএস খেতে পারেন। দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন এবং হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
ডিহাইড্রেশন: গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘামের মাধ্যমে জল বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং মাথাব্যথা ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণ। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। এর থেকে রেহাই পেতে তেষ্টা না পেলেও নিয়মিত জল পান করুন। ফলের রস, ঘোল, লেবুর জল ও ইলেকট্রোলাইটযুক্ত পানীয় উপকারী। অতিরিক্ত চা, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
ফুড পয়জনিং: গরমে খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। ফলে বাসি বা ঠিকমতো সংরক্ষণ না করা খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে। বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, জ্বর এর সাধারণ উপসর্গ। প্রতিরোধে সবসময় টাটকা রান্না করা খাবার খান। ফল ও সবজি ভালো করে ধুয়ে নিন। বাসি খাবার দ্রুত ফ্রিজে রাখুন এবং অপরিষ্কার জায়গার খাবার এড়িয়ে চলুন।
জলবাহিত রোগ: গরমে দূষিত জল থেকে টাইফয়েড, কলেরা, হেপাটাইটিস এ-র মতো রোগ ছড়ায়। জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। বাঁচতে ফোটানো, ফিল্টার করা বোতলজাত জল পান করুন। বাইরে বরফ দেওয়া পানীয় এড়িয়ে চলুন। খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সানবার্ন ও ত্বকের র্যাশ: অতিরিক্ত রোদে ত্বক পুড়ে যাওয়া, লালচে ভাব, জ্বালা বা ঘামাচির সমস্যা বাড়ে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। রেহাই পেতে বাইরে বেরনোর আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। টুপি, সানগ্লাস ও সুতির পোশাক পরুন। দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এড়িয়ে চলুন।
ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া: গরম ও বৃষ্টির জমা জলে মশার বংশবিস্তার বাড়ে। এর থেকেই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি দেখা দেয়। জ্বর, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, কাঁপুনি এর লক্ষণ হতে পারে। প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেবেন না। মশারি, রিপেলেন্ট ও স্প্রে ব্যবহার করুন। সন্ধ্যের পর ফুলহাতা পোশাক পরুন।
কনজাংকটিভাইটিস বা পিঙ্ক আই: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় চোখের সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানি, জল পড়া ও জ্বালা এর লক্ষণ। এর থেকে মুক্তি পেতে বারবার হাত ধোবেন। চোখে হাত দেবেন না। অন্যের ব্যবহার করা প্রসাধনী, তোয়ালে, বালিশ ব্যবহার করবেন না।
ফাঙ্গাল ইনফেকশন: ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে গরমে দাদ, চুলকানি, ফাঙ্গাল সংক্রমণ বাড়ে। ত্বক লাল হওয়া, চুলকানি ও খোসা ওঠা এর লক্ষণ। প্রতিরোধে ঘাম হলে দ্রুত না মুছে ফেলুন। নিয়মিত স্নান করুন এবং সুতির ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। ভেজা কাপড় দীর্ঘক্ষণ পরে থাকবেন না।
গরমে শিশু, বয়স্ক এবং যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘদিনের অসুখ রয়েছে, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত গরম শরীরের উপর বাড়তি চাপ ফেলে এবং অনেক সময় পুরনো অসুস্থতাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং শরীরের কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 07:21 PM May 17, 2026Updated: 07:21 PM May 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
