Advertisement
ভানগড় বা কুলধারার চেয়েও ‘ভয়ংকর', দেশের সবচেয়ে ভূতুড়ে স্থানে এলে বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল!
কেউ নেই, তবু জনশূন্য বারান্দায় কাদের যেন পায়ের ছাপ ফুটে ওঠে।
এদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর স্থান কোনটা? এই প্রশ্ন করলেই অধিকাংশ মানুষ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে বসবেন ভানগড়ের দুর্গের কথা। আবার কেউ কেউ বলবেন রাজস্থানের পরিত্যক্ত গ্রাম কুলধারার কথা। কিন্তু বিখ্যাত প্যারানর্ম্যাল বিশেষজ্ঞ সর্বজিৎ মহান্তি মনে করেন এই দু'টি জায়গা নয়, ভারতের সবচেয়ে 'ভূতুড়ে' জায়গাটি নৈনিতালে অবস্থিত। নাম মুক্তি কোঠরি।
উত্তরাখণ্ডের চম্পাবত জেলার লোহাঘাট অঞ্চলে অবস্থিত এই পরিত্যক্ত ভবনটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি। ‘অ্যাবট মাউন্ট’ নামের এক পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল এটি। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এখানকার একটি বাড়িকে হাসপাতালে পরিণত করা হয়। ডক্টর মরিস নামের এক ব্রিটিশ ডাক্তার ছিলেন সেখানে। এই রহস্যময় মানুষটিকে ঘিরেই এখানে অলৌকিকতার সূচনা। শোনা যায়, ইনি ডাক্তারির পাশাপাশি অতিপ্রাকৃতের চর্চাও করতেন।
ডক্টর মরিসের এক অলৌকিক ক্ষমতা ছিল। তিনি নাকি রোগীকে দেখেই তাঁর মৃত্যুর দিন ও সময় একেবারে হিসেব কষে বলে দিতে পারতেন। আর সেই মুহূর্ত ঘনিয়ে এলে সেই রোগীকে নিয়ে যেতেন মূল হাসপাতাল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেই পরিত্যক্ত ভবনে। যার নাম দিয়েছিলেন মুক্তি কোঠি। এখানে রোগীরা ঠিক সেই দিন এবং সেই সময়েই মারা যেত যা ডাক্তারবাবু বলে রেখেছেন!
পরবর্তী সময়ে গুঞ্জন ছড়ায়, ডক্টর মরিস মোটেই কোনও অলৌকিক শক্তির অধিকারী নন। বরং নিজের ভবিষ্যদ্বাণীকে সত্যি করে তুলতে তিনিই মানুষের আত্মার ওজন ও মৃত্যুর মুহূর্ত নিয়ে ভয়াল সব পরীক্ষা চালাতে রোগীকে খুন করতেন! শেষপর্যন্ত তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। থেকে যায় ‘ডক্টর ডেথ'-এর গল্প! যা আজও রয়ে গিয়েছে। রয়ে গিয়েছে সেই মুক্তি কোঠি। যেখানে আজও রয়ে গিয়েছে মৃত্যুর দীর্ঘশ্বাস।
ডক্টর মরিসের হাসপাতাল কিংবা মুক্তি কোঠিতে ঘুরতে আসেন বহু 'সিংহহৃদয়' মানুষ। কিন্তু এর পরিণাম নাকি সুখের হয় না! কেউ বলে, ভিতরে গেলেই আচমকা পিঠে ধাক্কা দেয় কাদের হাত! দরজা খুলে যায় আপনাআপনি। বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল, ক্যামেরা! শূন্য বারান্দায় কাদের যেন পায়ের ছাপ ফুটে ওঠে।
মুক্তি কোঠিতে যেতে চাইলে অসুবিধা নেই। কিন্তু রাতের অন্ধকারে কিংবা একা সেখানে যেতে বারণ করা হয়। অবিশ্বাসীদের মতে, আসলে ডক্টর মরিসের মতো 'বিদঘুটে' ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া গল্পগাছাকে ঘিরেই জন্ম নিয়েছে ভৌতিক সব দাবি। যা অনেকে বিশ্বাস করেন বলেই ক্রমশ তা দানা বেঁধেছে। কিন্তু যে যাই বলুক, যে একবার এখানে এসেছে সে নাকি জীবনেও ভুলতে পারেনি সেই অভিজ্ঞতা।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:00 AM Aug 19, 2026Updated: 08:16 PM Aug 18, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
