Advertisement
শুধু ক্রিকেট থেকেই ৬০০ কোটি, মাঠের বাইরেও বিপুল সাম্রাজ্যের মালিক ধোনি! লজ্জা পাবেন বিরাটও
ধোনি কখনও ব্র্যান্ডের পিছনে ছোটেননি, বরং নিজেই ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন।
এমএস ধোনির সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১,০৬০ কোটি টাকা। ক্রিকেট খেলে তিনি প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, বাকি আয়ের উৎস কোথায়? মূলত ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট, বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন স্টার্টআপে বিনিয়োগ থেকেই এসেছে সেই অর্থ। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা ও ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারণে ধোনি আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার, যেখানে মাঠের বাইরের আয়ই তাঁর সম্পত্তির সবচেয়ে বড় বুনিয়াদ।
ক্রিকেট খেলে বিরাট কোহলির তুলনায় ধোনি হয়তো কম উপার্জন করেছেন, কিন্তু সামগ্রিক সম্পত্তির নিরিখে তাঁর চেয়ে এগিয়ে। কেরিয়ারের সেরা সময়ে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১০০ কোটি। সেখানে কোহলি বারবার ২০০ কোটির গণ্ডি পার করেছেন। ধোনির সম্পত্তি 'এভারেস্টে' পৌঁছেছে ধারাবাহিক বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা, ইক্যুইটির মাধ্যমে। এখানেই পিছিয়ে পড়েছেন কোহলি, যাঁর বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ ১০৫০ কোটি। অন্যান্য ক্রিকেটারও ধোনির চেয়ে পিছিয়ে।
ধোনি কখনও ব্র্যান্ডের পিছনে ছোটেননি, বরং নিজেই ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন। কেরিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি এমন বহু মোটা অঙ্কের বিজ্ঞাপনী প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ সেগুলি তাঁর ব্যক্তিত্ব বা ভাবমূর্তির সঙ্গে মানানসই ছিল না। শুধুমাত্র পণ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থাকায় তিনি একবার প্রায় ৪০ কোটির চুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এই মনোভাবই ধোনির প্রতিটি ব্র্যান্ড এগ্রিমেন্টকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। সংস্থাগুলি শুধু তাঁর জনপ্রিয় মুখ নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছে। সব জায়গায় উপস্থিতি নয়, বরং সঠিক জায়গায় উপস্থিতিই প্রকৃত মূল্য তৈরি করে। এমনই যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন ক্যাপ্টেন কুল।
এখানেই থেমে থাকেননি ধোনি। বেছে নিয়েছেন ইক্যুইটি বা পার্টনারশিপের পথ। ইন্ডিয়া সিমেন্টসে শেয়ার নেওয়ার সুবাদে চেন্নাই সুপার কিংসের অংশীদারও হন। পাশাপাশি 'ঋতি স্পোর্টস', 'সেভেন বাই এমএস ধোনি' (পোশাক ব্র্যান্ড)-সহ একাধিক স্টার্টআপে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে। নগদ আয় সময়ের সঙ্গে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু ইক্যুইটি সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। বিশ্বের বড় ক্রীড়াবিদদের সম্পত্তি তৈরির পিছনেও কাজ করে এই একই নীতি।
পাশাপাশি বেঙ্গালুরুতে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলও তৈরি করেছেন। যার নাম এমএস ধোনি গ্লোবাল স্কুল। এর পাশাপাশি ড্রোন কোম্পানি এবং ফুড কোম্পানিতেও বিনিয়োগ রয়েছে। রাঁচিতে ‘মাহি রেসিডেন্সি’ নামে ধোনির একটি হোটেলও রয়েছে।
২০২৩ সালে সিএসকে'র মূল্য ১০,০০০ কোটিরও বেশি ছুঁয়েছিল। শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রকাশ্যে আসে, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য বহু বলিউড প্রযোজনা সংস্থাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। ধোনির কারণে যেমন সিএসকের ব্র্যান্ড বেড়েছে, তেমনই সিএসকের উত্থানে বেড়েছে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণও। সঠিক জায়গায় মালিকানা কীভাবে ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার অন্যতম বড় উদাহরণ এই মডেল।
অনেকেই বলেন, ক্রিকেট থেকে ধোনির অবসর ছিল একটি নিখুঁত ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’। সাধারণত অধিকাংশ ক্রিকেটারের অবসরের কয়েক বছরের মধ্যেই ব্র্যান্ড ভ্যালু কমে যায়। কিন্তু ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু এতটুকু কমেনি। কিংবদন্তিদের মূল্য কখনও হ্রাস পায় না। বরং তা কম্পাউন্ড রেটে বাড়তেই থাকে। ধোনি আইপিএলে মাঠে না নামলেও তাতে কোনও ভাটা পড়ে না।
২০২০ সালের আগস্টে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। অনেকেই ভেবেছিলেন, তাঁর জনপ্রিয়তা এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু ধীরে ধীরে কমে যাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উলটোটা। আইপিএল খেলেছেন। অধিনায়কত্ব করেছেন। ফলে কোটি কোটি দর্শক তাঁকে টিভি পর্দায় দেখেছেন। ধোনি বুঝেছিলেন, জনপ্রিয়তা টিকিয়ে রাখতে এটা থাকা দরকার।
খেলার পাশাপাশি ২০টি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত মাহি। প্রতি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন থেকে ৪-৬ কোটি টাকা আয় তাঁর। এছাড়াও তাঁর গাড়ি ও বাইকের সংগ্রহ তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। সিএসকে থেকে ৪ কোটি টাকা পান তিনি। তার পাশাপাশি সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট পিছু ১-২ কোটি টাকা আয় হয় ধোনির।
ক্যাপ্টেন কুলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির তালিকাও বেশ দীর্ঘ। রাঁচিতে তাঁর বিশাল বাগানবাড়ি রয়েছে। যার নাম ‘কৈলাসপতি’। ধোনির বাইক প্রীতির কথাও তাঁর ভক্তদের অজানা নয়। তাঁর গ্যারাজে রয়েছে নানা ধরনের বাইক। তার মধ্যে রয়েছে কাওয়াসাকি নিনজা এইচ২, হার্লে ডেভিডসন ফ্যাটবয়, দুকাটি, নর্টনের মতো বিখ্যাত বাইক। তাছাড়াও পোর্শে ৯১১, অডি, মার্সিডিজ, রেঞ্জ রোভার,মিৎসুবিশি পায়েরোর মতো বিলাসবহুল গাড়িও রয়েছে মহেন্দ্র সিং ধোনির গ্যারাজে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:09 PM May 10, 2026Updated: 05:09 PM May 10, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
