Advertisement
তালিবানি তাণ্ডব রুখতে চাই 'মসিহা' রশিদকেই, আফগানিস্তানে 'বিপ্লবে'র ডাক মহিলা ক্রিকেটারদের
তালিবানি শাসন সত্ত্বেও মহিলা ক্রিকেটারদের হয়ে সোচ্চার রশিদ খান।
তালিবানি শাসনে বন্ধ হয়েছে খেলা। ক্রিকেটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য দেশে পালাতে হয়েছে। এই কঠিন সময়েও আফগানিস্তানের মহিলা ক্রিকেটারদের পাশে ছিলেন একজন। তিনি আফগান পুরুষ দলের অধিনায়ক রশিদ খান।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের মহিলা দলের ক্রিকেটার ফিরোজা আমিরি মুখ খুলেছেন। তিনি নিজেও নির্বাসনে। তালিবানদের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রশিদ খান বারবার মহিলাদের ক্রিকেট নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। এবার আমিরি নিজেও স্বীকার করে নিলেন আফগান মহিলাদের ক্রিকেট বাঁচিয়ে রাখতে রশিদের অবদান কতটা।
আমিরি বলছেন, "যে ২৩ জন ক্রিকেটারকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, আমি তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ২০২১ সালে আমাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছিল। আমরা আফগানিস্তানে ছিলাম, গর্বের সঙ্গে থাকতাম। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতাম।"
সেই সময় তাঁদের অন্যতম শক্তি ছিলেন রশিদ খান। আমিরির বক্তব্য, "রশিদ আমাদের জন্য কাবুলে ক্রিকেট অ্যাকাডেমি তৈরি করে দিয়েছিলেন। ক্রিকেটের উন্নতির জন্য চেষ্টা করতেন। রশিদ জানতেন, এদেশের মহিলাদের একটা ক্রিকেট দল আছে।"
আর তারপরই নেমে এল বিপদ। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন জারি হয়। তারপর থেকেই সেদেশে মহিলাদের স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব হওয়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। মহিলাদের কোনওরকম খেলাধূলায় অংশ নিতেও পরিষ্কার বারণ করে দিয়েছে তালিবানরা।
তারপর থেকেই দেশের বাইরে ফিরোজা আমিরি, বেনাফসা হাশিমিরা। এখন ফিরোজা বলছেন, "যখন ২০০১ সালে তালিবান দেশের ক্ষমতা নিল, তারপর আমরা উবে যাইনি। আমাদের জোর করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত চার বছর ধরে বেশির ভাগ প্লেয়ার অস্ট্রেলিয়ায় আছে। এখানে অনুশীলন করছে।"
তাঁর কাতর অনুরোধ, "আমরা শুধু ক্রিকেট খেলতে চাই। আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই। এইটুকু সমর্থনই শুধু চাই আমরা। অনেক ঘর হারিয়েছে, পরিবার হারিয়েছে। আর অনেকে ভালোবাসার খেলার জন্য নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে।"
এই যুদ্ধে ফের রশিদদের সাহায্য চাইছেন ফিরোজা। তিনি বলছেন, "রশিদ, আমরা কথা বলার জন্য তৈরি। আপনি যে সাহায্য করেছেন, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ। এবার আসুন, আমাদের দলের সঙ্গে দেখা করুন। যদি আপনি আফগান মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি চান, তাহলে আমাদের পাশে দাঁড়ান।"
বিশ্বকাপ চলাকালীন রশিদ খান মহিলা দলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "আইসিসি'র পূর্ণ সদস্য হতে গেলে মহিলাদের দলের প্রয়োজন আছে। আমরা আফগানিস্তানকে সব জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করতে দেখতে চাই। বাকিটা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানে।"
Published By: Arpan DasPosted: 04:35 PM Feb 24, 2026Updated: 04:35 PM Feb 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
