Advertisement
লেলিহান শিখা গিলে খাচ্ছে ফ্রান্স-স্পেনকে! লেন্সবন্দি দাবানলের তাণ্ডব
ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল অংশ জুড়ে চলা এই প্রকৃতির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিপর্যয়ের সেই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হবেন আপিনিও।
প্রকৃতির প্রলয়ঙ্করী রূপের সামনে ছারখার আধুনিক সভ্যতা। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়ায় ঢেকেছে ইউরোপের আকাশ। ছাইয়ের চাদরে মুড়ে গিয়েছে সবুজ প্রান্তর। ফ্রান্স ও স্পেনের বিশাল অংশ জুড়ে চলা এই প্রকৃতির তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। বিপর্যয়ের সেই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হবেন আপিনিও। ছবিটি স্পেনের লা ভাল ডি'উক্সিও এলাকার।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি। তীব্র দাবদাহ ও শুষ্ক আবহাওয়া এই আগুনকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সাহায্য করছে। ফ্রান্স ও স্পেন সরকারের আশঙ্কা, আগামী দিনে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ফলে আতঙ্ক কাটছে না সাধারণ মানুষের।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশেপাশের অঞ্চল ইতিমধ্যেই দাবানলে পুড়ে ছারখার। প্রায় ৭৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে। মাদ্রিদ শহরের আয়তনের চেয়েও বৃহৎ এই অঞ্চল। ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ফ্রান্সের ওয়াইন তৈরির বিখ্যাত অঞ্চল জিরোন্দে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। চার দিনের কম সময়ে সেখানে ৪২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে ছাই। এই আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ। বরদো শহরের কাছে দাবানলের কারণে ২ লক্ষের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই আগুন এখন শহরের দোরগোড়ায়।
ফ্রান্সের জিরোন্দের এই দাবানল শুধু বনজ সম্পদ নয়, বরং একাধিক অত্যন্ত স্পর্শকাতর সামরিক ও শিল্পকেন্দ্রকেও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফরাসি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট মোটর এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে আগুনের তীব্র শিখা। ফলে সেনা ও প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এলাকা পাহারার ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। ফ্রান্সের বিস্কারোসের একটি বিজনেস পার্কে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও যানবাহন।
দাবানল এতটাই ভয়াবহ যে আকাশে তৈরি হয়েছে বিরল ‘ফায়ার থান্ডারস্টর্ম’ বা আগুনের বজ্রঝড়। অতিরিক্ত তাপে ধোঁয়া, ছাই ও জলীয় বাষ্প দ্রুত বায়ুমণ্ডলে উঠে বিশাল মেঘ তৈরি করছে। সেই মেঘ থেকেই সৃষ্টি হচ্ছে বজ্রপাত, যা নতুন করে বিভিন্ন জায়গায় আবার আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। ফলে নানা প্রযুক্তি দিয়েও বাগে আনা যাচ্ছে না পরিস্থিতি।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যানাডেয়ার বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই বিমানগুলি মাত্র ১২ সেকেন্ডে জলাশয় থেকে ৬,০০০ লিটার জল তুলে অগ্নিকাণ্ড এলাকায় ফেলছে। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিমান মহড়া চালাচ্ছে এবং ফায়ার রিটার্ড্যান্ট বা আগুন নিরোধক রাসায়নিক ছেটানো হচ্ছে। এভাবে আগুন ছড়িয়ে পড়া আটকানোর চেষ্টা জারি রয়েছে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 06:24 PM Jul 28, 2026Updated: 06:43 PM Jul 28, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
