Advertisement
প্রশ্নফাঁস থেকে আত্মহত্যা, ২০১৩ থেকেই পরপর বিতর্কে নিট, সুপ্রিম কোর্টে উঠেছে সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নও
জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত নিট নিয়ে বিতর্কের ফিরিস্তি চমকে দেবে, অথচ মোদি সরকার নীরব।
সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা অর্থাৎ নিট নিয়ে ফের বিতর্ক। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র।
ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায় ১২০টি রসায়ন প্রশ্ন আসল প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, মিলে গিয়েছে উত্তরের অপশনও। এহেন দুর্নীতি যেন আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতেই অনলাইন পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
ইতিমধ্যেই নিট কাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। পিভি কুলকর্নি নামে পুণের বাসিন্দা এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ইনি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং এনটিএ-র তরফে নেওয়া নিট পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেকচারার হিসেবে কর্মরত।
তবে এই প্রথম নয়, জন্মলগ্ন থেকেই বিতর্কে নিট। সেই ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা। কিন্তু শুরুতেই চলে আসে আইনি বাধা। একাধিক রাজ্য সরকার নিটের বিরোধিতা করে। রাজ্যগুলির দাবি ছিল, এভাবে মেডিক্যালে কেন্দ্রীয় স্তরে পরীক্ষা নেওয়া মানে রাজ্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিকভাবে নিটকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে। যদিও পরে সেই রায় বাতিল হয়।
আইনি বাধা পেরোলেও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি নিটের। ২০১৫ সালে ওই পরীক্ষার সময় অভিনব প্রতারণা ধরা পড়ে। দেখা যায় বহু পড়ুয়া পোশাকে বিশেষ ব্লুটুথ ডিভাইস লুকিয়ে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন। সেবার সুপ্রিম কোর্ট পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
২০১৬ সালে দেশজুড়ে সব মেডিক্যাল কলেজে একসঙ্গেই মেডিক্যাল প্রবেশিকা হয়। সেবারেও নিটের দ্বিতীয় পর্বে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। সেসব নিয়ে আন্দোলনও হয়েছিল। কিন্তু সেবার সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি।
২০১৭ সালেই সম্ভবত NEET নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছে। অভিযোগ ছিল, সর্বভারতীয় স্তরে নিট পরীক্ষা হলেও হিন্দিভাষীরা বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। আঞ্চলিক ভাষায় কঠিন প্রশ্ন করা হয়েছে। সেবার তামিলনাড়ুর এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। যা নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল হয়। ফের বিতর্ক গড়ায় আদালতে। পরবর্তীকালে তামিলনাড়ুতে নির্বাচনের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ওই নিট।
২০২০-২০২১ সালেও নিট নিয়ে বিতর্ক হয়। এবার অভিযোগ উঠে দেশ জুড়ে 'সলভার গ্যাং' নামের কিছু চিকিৎসকের টিম অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছে। সেই দুবছর বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও তখন পরীক্ষা বাতিল হয়নি। তবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি প্রবল সমালোচিত হয়।
২০২৪ সালে ওই সলভার গ্যাং এবং একই রকম নম্বরের বিতর্ক চরম আকার নেয়। এমনকী বিহারের হাজারিবাগে প্রশ্নপত্র চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্ট সেবার হস্তক্ষেপ করা। এনটিএ তিরস্কৃত হয়। সরকারও চাপের মুখে পড়ে। তাতেও তাৎপর্যপূর্ণভাবে ইউজিসি বা এনটিএ-র কোনও আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০২৬ অর্থাৎ চলতি বছরের বড় বিতর্ক প্রশ্নফাঁস। এবারেও ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে। এবিভিপি-সহ প্রায় সব ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভ দেখিয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে সরকার এখনও নীরব।
বস্তুত জন্মলগ্ন থেকেই নিট নিয়ে বিতর্ক। কখনও এই পরীক্ষার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখনও এই পরীক্ষার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখনও আবার নির্বাচনী ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় নিট, ঢুকে যায় কেন্দ্র-রাজ্য বিতর্ক ইস্যুও। বারবার নিট বাতিলের দাবি উঠেছে। বারবার নিশানায় থেকেছে মোদি সরকার। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:08 PM May 16, 2026Updated: 05:08 PM May 16, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
