Advertisement
পছন্দ না হলেই উৎখাত, ছলে-বলে সরকার ফেলার 'মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ' বহুবার দেখেছে বিশ্ব
কখনও বন্দুকের নলে, তো কখনও কূটনীতির অঙ্কে আগ্রাসন চালিয়েছে আমেরিকা।
মার্কিন হামলায় ভেনেজুয়েলায় সরকার পতনের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দিত আমেরিকার 'সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতা'। তবে এই ঘটনা নতুন কিছু নয়। 'স্বার্থের পরিপন্থী হলেই সরিয়ে দাও', ওয়াশিংটনের এই নীতি বহু পুরনো। রিপোর্ট বলছে, গত ১২০ বছরের ইতিহাসে ৩৬টি দেশে সরাসরি হস্তক্ষেপে সরকার বদল করেছে তারা। কখনও বন্দুকের নলে, তো কখনও কূটনৈতিক চালে। আড়াল থেকে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। ভেনেজুয়েলা এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন। দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার আগ্রাসনের কিছু নমুনা।
আজ থেকে ঠিক ৩৬ বছর আগে ১৯৮৯ সালে পানামায় সামরিক অভিযান চালিয়েছিল আমেরিকা। সেদিনও ছিল ৩ জানুয়ারি। মাদক পাচার, ভোটে কারচুপি, মার্কিন সেনা হত্যার অভিযোগ নোরিয়েগার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে জর্জ বুশের প্রশাসন। সেই অভিযানের নাম ছিল 'অপারেশন জাস্ট কজ'। তবে অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।
১৯৫৩ সালে আমেরিকার সিআইএ এবং ব্রিটেনের MI6 পরিকল্পিত গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মহম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করে। এই অভিযানের নাম ছিল 'অপারেশন অ্যাজাক্স'। হামলার মূল কারণ ছিল, ইরানের প্রশাসন তেলশিল্পের জাতীয়করণ করেছিলেন যা আমেরিকা ও ব্রিটেনের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল।
১৯৫৪ সালে আমেরিকার শিকার হয় গুয়াতেমালা। গদি হারাতে হয় নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জেকব আরবেনজকে। তাঁর ভূমি সংস্কার নীতিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছিল মার্কিন সংস্থা ‘ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানি’। কারণ, দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মালিকানা ছিল সংস্থাটির হাতে। ফলে যা হওয়ার তাই হল। সমাজতন্ত্র রোখার নামে অপারেশন ‘পিবি সাকসেস’ শুরু করল সিআইএ। নকল অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হল আরবেনজকে। পরে আমেরিকা তাঁর পছন্দের নেতাকে এখানে ক্ষমতায় বসায়।
১৯৭৩ সালে চিলির প্রেসিডেন্ট সালভাদর এলান্দেকে ক্ষমতাচ্যুত করে আমেরিকার সিআইএ। কারণ চিলির তামা শিল্প এবং ব্যাংকগুলো জাতীয়করণ করেন সালভাদর। এতে চিলিতে থাকা মার্কিন সংস্থাগুলি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন চিলিকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্টের ভবনে হামলা চালানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় সালভাদরের।
২০০৩ সালে সরাসরি সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকারকে উৎখাত করে আমেরিকা। এটি 'ইরাক যুদ্ধ' বা 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' নামে পরিচিত। আমেরিকা অভিযোগ তোলে ইরাকে সাদ্দাম পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে এবং আল-কায়দার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের পর এক সুড়ঙ্গ থেকে সাদ্দামকে পাকড়াও করে মার্কিন সেনা। ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয় তাঁকে। যদিও দাবি করা হয়, এই হামলার নেপথ্য কারণ ছিল ইরাকের তেল। এমনকী যে পরমাণু অস্ত্রের অভিযোগ আমেরিকা তুলেছিল তার কোনও অস্তিত্ব বাস্তবে পাওয়া যায়নি।
২০১১ সালে লিবিয়ায় শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফির পতন এবং তাঁকে হত্যার পেছনেও ছিল আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ন্যাটো (NATO) জোট। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে 'আরব বসন্তের' প্রভাবে লিবিয়ায় গদ্দাফিবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলে তা দমনে কঠোর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেন গদ্দাফি। দেশটিতে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। সেই সময়ে সেখানকার নাগরিকদের রক্ষার কারণ দেখিয়ে হামলা চালায় ন্যাটো। যদিও দাবি করা হয় এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল লিবিয়ার বিশাল তেল সম্পদ এবং গদ্দাফির পশ্চিমবিরোধী অবস্থান। এখানেই শেষ নয়, অতীতে ইন্দোনেশিয়া, হাইতি, সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ ভিয়েতনামের মতো একাধিক রাষ্ট্রে নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়েছে আমেরিকা।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 06:10 PM Jan 05, 2026Updated: 07:37 PM Jan 05, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
