Advertisement
'দো লফজো কি হ্যায়'... বলিউডের রোমান্সের রাজধানী ভেনিস চিরকাল এমন জলমগ্ন ছিল না!
ছবিতে দেখে নিন অজানা ভেনিস-কথা।
সুইজারল্যান্ড নাকি মর্ত্যের স্বর্গ। তার সৌন্দর্যের তুলনা টানতে একথা বারবার বলা হয়। ইউরোপের এই দেশটি যদি স্বর্গ হয়, তাহলে আরেক দেশ ইটালিকে শিল্পকলার শহর বলাই যায়। রোম, ভেনিসের মতো স্থাপত্যে মোড়া, শান্ত-স্নিগ্ধ শহরগুলি যেন একেবারে ক্যানভাস থেকে উঠে এসেছে! প্যারিস যেমন রোম্যান্সের শহর, ভাসমান ভেনিস নিয়েও রোম্যান্টিকতা কম নেই।
ভেনিস মানেই ছোট-বড় নানারকমের, নানা নকশার গন্ডোলা। বলিউড সিনেমার দৌলতে গন্ডোলার খ্যাতি আমাদের জানা। অমিতাভ-জিনাত আমানের 'দো লফজো কি হ্যায়' গানটির দৃশ্যায়ন নিশ্চয়ই ভোলেননি? সেও তো গন্ডোলায় ভেনিস ভ্রমণের এক মনোরম দৃশ্য।
আমাদের ঘরে ঘরে সাইকেল, স্কুটারের মতো এই গন্ডোলা ভেনিসবাসীর ঘরে ঘরে থাকে। না থেকে উপায়ও নেই অবশ্য। এখানে যে রাস্তা মানে জলপথ। এসব তো সকলের জানা। কিন্তু জানেন কি, ভেনিস চিরকাল এমন ভাসমান শহর ছিল না? সময়ের চাকা বেয়ে আজ তার এমন দশা।
ভেনিস শহরের বয়স পেরিয়ে গেল প্রায় ১৬০০ বছর। ওই প্রাচীন আমলে গাছের গুঁড়ি, কাঠের মতো শক্তপোক্ত ভিতের উপর নাকি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল শহরটা। ইতিহাস অনুযায়ী, বার্চ, পাইন, অল্ডার, ওক গাছের গুঁড়ি নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিল। তাদের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ১১ ফুট। প্রকৃতির নিজস্ব 'ইঞ্জিনিয়ারিং'-এর জোরে ওই গাছের গুঁড়ির উপর পাথর জমে জমে মার্বেলের মতো শক্ত স্তর তৈরি হয়েছিল। সেটাই ভেনিসের আসল ভিত।
পরবর্তী সময় সেখানে আরও বহু গুঁড়ির উপর পলির স্তর পড়ে। তখনও ভেনিস জলমগ্ন হয়নি। ধীরে ধীরে অক্সিজেন কমে আসে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, দিনে দিনে পচে যাওয়ার বদলে সেসব গুঁড়ি আরও শক্ত হয়ে ভেনিসকে ধরে রেখেছে। সে অর্থে বলা যায়, ভেনিসের নিচে একটা গোপন অরণ্য রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, কীভাবে ভেনিস আচমকা জলে ডুবে গিয়ে ভাসমান হয়ে উঠল? এও নাকি প্রাকৃতিক ইঞ্জিনিয়ারিং কৌশল। ভেনিসের ভিত যেহেতু সম্পূর্ণ প্রকৃতির তৈরি, তাই কালে কালে ওই ভিতের উপর নরম মাটি, পলিস্তর জমা হয়ে কাঠের গুঁড়ি শক্তপোক্ত ভাব নষ্ট হতে থাকে।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 03:25 PM Jan 06, 2026Updated: 03:25 PM Jan 06, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
