Advertisement
বিশ্বের বৃহত্তম বিয়ার মিউজিয়ামে ঢুকলেই নেশা! রয়েছে শতাধিক ব্র্যান্ড, চেখে দেখবেন নাকি?
অনেকেই বলেন, এটা এমন এক জাদুঘর যেখানে ঢুকলেই মাতাল হওয়া যায়!
মিউজিয়াম। বললেই আর যাই মনে পড়ুক বিয়ারের কথা বোধহয় কারওই মনে আসবে না। আসলে জাদুঘর মানেই শিল্প, সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞানের নানা দিকের কথাই মনে ভাসে। কিন্তু সত্যিই রয়েছে বিয়ারের মিউজিয়াম। সবচেয়ে বড় বিয়ার মিউজিয়াম রয়েছে চিনের নানজিংয়ে। সুরাপ্রেমী মানুষদের কাছে এটা যেন স্বর্গ। শতাধিক দেশের বিয়ারের প্রদর্শনীর পাশাপাশি রয়েছে আরও নানা আকর্ষণ। এবং... অবশ্যই রয়েছে চেখে দেখার সুযোগও!
চিনের চিয়াংসু প্রদেশের রাজধানী নানজিং। জনসংখ্যার ঘনত্বের নিরিখে পূর্বাঞ্চলীয় চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরেই রয়েছে এই বিয়ার মিউজিয়াম। চেনা মিউজিয়ামের চেহারার সঙ্গে মিলবে না এই আশ্চর্য জাদুঘর। ঢুকলে তাক লাগতে বাধ্য। বিয়ারের নির্মাণ থেকে শুরু করে তার স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে এখানকার ডিসপ্লে।
একবার এই মিউজিয়ামে প্রবেশ করলেই প্রথমে সেটাই আপনাকে মগ্ন করে তুলবে। প্রতি পদে সোনালি তরলের অসামান্য ডিসপ্লে। যেমন ছাদ, তেমনই দেওয়াল। আলোকবিন্যাসেও নান্দনিকতার স্পর্শ। প্রতিটি কোনায় কোনায় এমন প্রদর্শনী, আপনার পা থমকে যাবে। ধাঁধিয়ে যাবেই চোখ। আর ততই আপনি বুঝতে পারবেন, মিউজিয়ামের চেনা ছককে অস্বীকার করে এক নতুন ধরনের জাদুঘর নির্মিত হয়েছে এখানে।
চায়না ওয়ান্ডার্স গাইডের সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেলজিয়ান এইল, আমেরিকান আইপিএ থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্রু পর্যন্ত বিশ্বের শত শত বিয়ারে ছয়লাপ নানজিং ওয়ার্ল্ড ক্র্যাফট বিয়ার মিউজিয়াম। অনেকেই বলেন,এটা এমন এক জাদুঘর যেখানে ঢুকলেই মাতাল হওয়া যায়! এবং একবার এখানে এলে বোধহয় এই বর্ণনা সঠিক বলেই মনে হয়।
উন্মুক্ত পাইপ ও কংক্রিটের মাধ্যমে তৈরি শিল্পসম্মত নান্দনিকতার পাশাপাশি নিয়ন আলো ও শিল্পকর্মের সমাহার যে কোনও শিল্পরসিক মানুষকে মুগ্ধ করবেই। তার উপরে তিনি যদি সুরাপ্রেমী হন, তাহলে তো কথাই নেই। সেই সঙ্গে ইচ্ছেমতো বিয়ার চেখে দেখার সুযোগ পাবেন। চাইলে কিনতে পারবেন বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্যও। তাছাড়া শোনা যাবে লাইভ মিউজিক। আর ছবি তোলার ক্ষেত্রেও এমন ব্যাকগ্রাউন্ড! অভাবনীয়।
চিনের উউই প্লাজার ভিতরেই রয়েছে এই মিউজিয়াম। বিয়ার কীভাবে তৈরি হয়, বিভিন্ন দেশে তার নানাবিধ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞানের সঙ্গেও পরিচিত হতে পারবেন। তাছাড়া, আগেই বলা হয়েছে, বসে বসে তেষ্টা মেটাতে চুমুক দিতে পারবেন জার্মান, মার্কিন, জাপানি বিশ্বসেরা নানা ধরনের চমৎকার বিয়ারে। শতাধিক দেশের বিয়ার রয়েছে এখানে।
এই মিউজিয়ামের আরও এক বড় আকর্ষণ, প্রবেশ করতে কানাকড়িরও প্রয়োজন নেই। সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই এখানে ঘুরে বেড়াতে পারবেন আপনি। ফিউচারিস্টিক লুকের সঙ্গে নানন্দিকতার অনন্য মিশেলের ভিতরে আপনি কখন যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে ফেলবেন তা বোঝাই দুষ্কর। আলো-ছায়ার অনন্য বিন্যাসের ভিতরে ঘুরতে ঘুরতে আপনার মনে হতেই পারে, এটাই বোধহয় পৃথিবীর সবচেয়ে নেশাচ্ছন্ন স্থান!
সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় এই বিয়ার মিউজিয়ামের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে বহু নেটিজেনই আক্ষেপ করেছেন, 'দেখতে অসামান্য লাগছে। কিন্তু এখানে সশরীরে যেতে পারলে দারুণ লাগবে!' আবার আরেকজন লিখেছেন, 'আমি কেবল ভাবছি মন দিয়ে বিয়ার পান করে ওই অসামান্য ছাদটার দিকে তাকালে কেমন লাগবে!' আবার কেউ কেউ দাবি করছেন ভিডিওটা দেখেই তাঁদের মনে হচ্ছে, তাঁরা বিয়ার খেয়ে নেশাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছেন।
চিনের এই শহর এমনিতেই সংস্কৃতির সঙ্গে ইতিহাসের এক চমৎকার মেলবন্ধন। মিউজিয়ামটি ছাড়াও আপনি যেতে পারেন অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে। যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক সান ইয়াত-সেন সমাধি, মিং জিয়াওলিং সমাধি, মনোরম শুয়ানউ লেক, কনফুসিয়াসের মন্দির, কিনহুয়াই নদী আরও কত কী! তবে সেগুলির সঙ্গে বিয়ার মিউজিয়ামটিও অবশ্যই আসতে হবে আপনাকে। সুরাপ্রেমী না হলেও এখানে এলে মুগ্ধ হবেনই, হলফ করে বলা যায়।
Published By: Biswadip DeyPosted: 09:21 PM Apr 14, 2026Updated: 09:21 PM Apr 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
