দুর্গা পুজো এসেই গেল প্রায়! আর প্রতিবারের মতোই তাই এবারও লক্ষ্য একটাই, পুজোর আগেই ত্বককে করে তুলতে হবে নজরকাড়া (Beauty Routine)। যত নামী দামী প্রসাধনীই ব্যবহার করে ফেলুন না কেন, প্রাচীনকালের ভেষজ উপটানের সমতুল্য হতে পারবে না আর কিছুই। ত্বককে কীভাবে উজ্জ্বল ও মসৃণ করে তোলা যায়, সে আলোচনায় যেমন প্রথমেই উঠে আসে হলুদের কথা। ত্বকের ক্ষতি করে না, বরং প্রতিটি রোমকূপের ভিতরে প্রবেশ করে যাবতীয় মৃত কোষ দূর করে হলুদ। এই কারণে আজও বাঙালির বিয়ের অনুষ্ঠানে গায়ে হলুদের পর্বটি অপরিহার্য। যে সময়ে কৃত্রিম প্রসাধনী ব্যবহার করে রূপটানের চল ছিল না, সে সময়ে এই হলুদের লেপনই তাৎক্ষনিক উজ্জ্বলতা দিত নববধূটির ত্বককে।
নানা উপায়ে হলুদ যোগ করা যায় নিয়মিত রূপচর্চায়। যেমন—
- দাগ দূর করতে – মুখের এদিক সেদিক যদি দাগ ছোপে ভরে ওঠে, তবে অল্প পরিমাণ হলুদ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে কিছু সময়ের জন্য লাগিয়ে রাখা যায় সেখানে। তারপর ঈষদুষ্ণ জলে ধুয়ে ফেললেই হল।
- ক্লেনজার হিসেবে – দোকান থেকে কেনা ফেসওয়াশ তো রইলই। তবে চাইলে বাড়িতে বসেই বানিয়ে নিতে পারবেন নিজের পছন্দসই ক্লেনজার। এর জন্য গোলাপজল বা দইয়ের সঙ্গে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পাতলা পেস্ট তৈরি করতে হবে। মুখ আগেই ভিজিয়ে নিয়ে, এই পেস্ট ঘষে মেখে নিতে হবে সমগ্র মুখ জুড়ে। একইভাবে, ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে ভালো করে ঘষে তুলে ফেলতে হবে।
- বডি মাস্ক – মুখের মতোই হলুদের প্রলেপ দূর করবে দেহের ময়লাও। মধু বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে হাত-পায়ের ত্বকে ভালো করে ডলে ডলে মেখে নিন হলুদ। তারপর স্নান করে নিন ভালোমতো।
বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় তুমুল ভাইরাল এক নতুন ধারার হলুদের ফেসমাস্ক। এই রূপটানের উপাদানটি বানাতে কাঁচা হলুদ কিংবা হলুদ গুঁড়ো নয়, প্রয়োজন পড়বে ‘রোস্টেড হলুদ’। অর্থাৎ, ফেস মাস্ক তৈরির আগে পাত্র গরম করে তাতে শুকনো খোলায় ভেজে নিতে হবে গুঁড়ো হলুদ। এরপর সামান্য মধু ও গোলাপজলের সঙ্গে ‘রোস্টেড হলুদ’ মিশিয়ে তা থিতু হতে দিতে হবে কিছুক্ষণের জন্য।
এরপর মুখ জুড়ে ফেসপ্যাক মেখে ১৫ মিনিট রাখতে হবে। তারপর ধুয়ে ফেললেই ত্বক হবে মসৃণ ও উজ্জ্বল। যদিও একদিনেই মনমতো ফল পাওয়া যাবে এমনটা ভাবা ভুল। তাই পুজোর সময় গ্লোয়িং ত্বক চাইলে তার প্রস্তুতি শুরু করে দিন আজ থেকেই!
