‘চলো দেখা যাক কী হয়’— সম্পর্কের এই পুরনো ধোঁয়াশাকে বিদায় জানাচ্ছে আজকের প্রজন্ম। ডেটিংয়ের দুনিয়ায় এখন নতুন ট্রেন্ড ‘হার্ডবলিং’ (Hardballing)। প্রথম দিনেই সব কথা পরিষ্কার করে নেওয়া। কোনও নাটক নেই, কেবল সোজাসাপটা কথা। জেনারেশন জেড বা জেন জি এখন এই পথেই খুঁজছে মানসিক শান্তি।
কী এই হার্ডবলিং? সহজ কথায়, সম্পর্কের শুরুতেই নিজের চাহিদা ও প্রত্যাশা জানিয়ে দেওয়া। আপনি বিয়ে করতে চান কি না, সম্পর্কটি সিরিয়াস না কি স্রেফ ক্যাজুয়াল, এমনকী লং ডিসট্যান্স নিয়ে আপনার মতামত কী— সবটাই আলোচনা হবে প্রথম কয়েক দিনেই। আগে এই সব প্রশ্ন মাসের পর মাস এড়িয়ে চলা হত। পরে যা নিয়ে চলত অশান্তি আর তিক্ততা। এখন জেন জি-র মনোভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। ‘আমার এই চাই, তোমার সঙ্গে না মিললে অন্য পথ দেখব।’
জেনেন কি কেন বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা? সম্পর্ক ভাঙার যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতেই এই পথ বেছে নেওয়া। অনেক সময় মনে জমে থাকা প্রত্যাশা পূরণ না হলে তৈরি হয় মানসিক চাপ। হার্ডবলিং সেই অনিশ্চয়তা কমিয়ে দেয়। সঙ্গীর চালচলন নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা করার চেয়ে সরাসরি কথা বলাই বেশি কার্যকর মনে করছে তরুণ প্রজন্ম।
সোশ্যাল মিডিয়া বা ডেটিং অ্যাপের প্রোফাইলেও এখন বদল চোখে পড়ছে। ‘নো ক্যাজুয়াল ডেটিং’ বা ‘ম্যারেজ মাইন্ডসেট’— এমন কথা সরাসরি লেখা থাকছে বায়োতে। আগে একে রুক্ষ ব্যবহার ভাবা হলেও, এখন এটিকেই পরিপক্কতা বা ম্যাচিওরিটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সময় নষ্ট না করে সত্যিটা বলাই এখনকার দস্তুর।
সুবিধা কী? প্রথমত, এটি স্বচ্ছতা বজায় রাখে। দ্বিতীয়ত, এটি সময় বাঁচায়। যদি দুজনের চাওয়া না মেলে, তবে শুরুতেই সরে আসা যায়। এতে অহেতুক আবেগপ্রবণ হওয়ার সুযোগ কম। তেমনই কমে ব্রেক-আপের পরবর্তী বিষণ্ণতা। অনিশ্চয়তা কমলে মনও শান্ত থাকে।
অনেকের মতে, প্রেমের শুরুতেই এত হিসেবনিকেশ করলে রোম্যান্স ফিকে হয়ে যায়। কিন্তু জেন জি-র যুক্তি আলাদা। তাদের মতে, মিথ্যে আশার ওপর ভিত্তি করে ভালোবাসা টেকে না। স্বচ্ছতা থাকলে রোম্যান্স আরও গভীর হয়। আর তাই ‘হার্ডবলিং’ হয়তো আগামী দিনে ডেটিংয়ের নতুন দস্তুর হয়ে উঠতে চলেছে।
