রোম্যান্টিকতার চটক নয়। কিংবা দামি উপহারের হাতছানি নয়। অন্তত ডিভোর্সের পর যারা নতুন করে সম্পর্কে জড়াতে চাইছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা স্পষ্ট। চকচকে উপহারের চেয়ে মানসিক নিরাপত্তাকেই তাঁরা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে এমনটাই।
ফাইল ছবি
‘রিবাউন্ড’ নামক অ্যাপের সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিভোর্স বা বিচ্ছেদের পর বেশিরভাগ মানুষ সম্পর্কে শুধু ভালোবাসা নয়, খোঁজেন মানসিক আশ্রয়। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৯ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে আড়ম্বরপূর্ণ ভালোবাসার চেয়ে সঙ্গীর সান্নিধ্য অনেক বেশি দামি। শহরের মেট্রো এবং আর্বান এলাকার ২৭ থেকে ৪৫ বছর বয়সি ৫,৭৪৮ জন ডিভোর্সি, সেপারেটেড এবং বিপত্নীক ব্যক্তির ওপর এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
ফাইল ছবি
সমীক্ষায় স্পষ্ট যে, বিচ্ছেদের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ শিখেছে। মেকি রোম্যান্টিকতা নয়, একে অপরের মানসিক আশ্রয়ই শেষ কথা। প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মনে করেন, হঠাৎ বেশি ভালোবাসা পাওয়ার পর যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা বিচ্ছেদের যন্ত্রণার চেয়েও বেশি কষ্টের। ৩৯ শতাংশ মানুষের মতে, বড় কোনও উপহারের চেয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অনেক বেশি স্বস্তির।
ফাইল ছবি
নারীদের ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৪৪ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সঙ্গীর স্বচ্ছ ধারণা বা স্পষ্ট যোগাযোগই তাদের কাছে শ্রেষ্ঠ উপহার। অন্যদিকে, কেবল ডিভোর্স নয়, চল্লিশোর্ধ্ব বিবাহিতদের ক্ষেত্রেও এই মানসিক শূন্যতা কাজ করছে। অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ৪৩ শতাংশ মানুষ এই বয়সে সঙ্গীর থেকে দূরে সরে যান। এর প্রধান কারণ নিজের মনের কথা খুলে বলার অভাব।
ফাইল ছবি
তাই, শেষমেশ ভালোবাসার কাছেই আবার ফিরে যেতে হয়। আড়ম্বর নয়, সান্নিধ্যই সম্পর্কের শেষ কথা। একটা সময়ের পর সমস্ত মেকি প্রবণতা উধাও হয়ে যায়। পরে থাকে নির্ভযোগ্যতা আর শেষ আশ্রয়। বুকের ভিতরের সেই লাল ছুঁয়ে থাকাই অদ্ভুত প্রশান্তির জায়গা।
