রাতে ঘুমনোর সময় ঢিলেঢালা পোশাক পরাই উচিত। আরামের কথা মাথায় রেখে কমবেশি সকলেই সে কাজ করেন। তবে তা বলে নগ্ন হয়ে ঘুম? অনেকেই বলছেন, রাতে ঘুমের সময় শরীরে সুতোটি না রাখাই নাকি উচিত। তাতে মিলবে হাজারও শারীরিক উপকার। বাড়বে আয়ুও।
ব্যাপারটা খোলসা করা যাক। দিনকয়েক আগে মার্কিন উদ্যোগপতি ব্রায়ান জনসন X হ্যান্ডেল পোস্ট শেয়ার করেন। যার মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, যে মহিলারা রাতে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ঘুমোন তাঁদের নাকি সর্বোচ্চ সাত বছর আয়ু বৃদ্ধি হয়। কারণও ব্যাখ্যা করা হয় ওই পোস্টে। যাতে বলা হয়েছে, শরীরে পোশাক না থাকার মানেই শীতলতা। তার ফলে স্নায়ুর চাঞ্চল্য দূর হবে। আর ঘুম ভালো হবে। ঘুম ভালো হওয়া মানেই শারীরিক সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। শরীর ভালো থাকলেই বাড়বে আয়ু। জনসন ওই পোস্ট শেয়ার করলেও তাঁর দাবি এই তথ্য ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, "নগ্ন হয়ে ঘুমনোর উপকারিতা রয়েছে। ভালো ঘুম হয়, ত্বক ভালো থাকে ঠিকই। তবে তার সঙ্গে আয়ু বৃদ্ধির কোনও সম্পর্ক নেই।"
জার্নাল অফ সাইকোলজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি, স্লিপ জার্নালের মতো একাধিক গবেষণা রিপোর্ট জনসনের সঙ্গে একমত। গবেষণা অনুযায়ী, নগ্ন হয়ে ঘুমনোর সত্যি হাজারও উপকারিতা রয়েছে। ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পোশাক আমাদের শরীরের ত্বকের তাপকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাপ বিকিরণ হতে পারে না। তার ফলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক এই কারণে প্রচণ্ড গরমে আঁটসাঁট জামা পরলে অনেক সময় চুলকানি, ফুসকুড়ি বেরনোর মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই পোশাক না পরলে ত্বক ভালো থাকে। আবার ঘুমও ভালো হয়। আর ভালো ঘুম মানেই ঝরঝরে শরীর। মনও থাকবে ফুরফুরে। আবার ধরুন যদি আপনি সঙ্গীর পাশে থাকেন। তাহলে নগ্ন শরীর দেখে যৌন উদ্দীপনা বাড়তে পারে সঙ্গীর। তা যৌন জীবনের ক্ষেত্রেও সুখকর। যৌনতাও মানসিক চাপ থেকে রেহাই দিতে যেমন ওষুধের মতো কাজ করে। তেমন শারীরিক কসরতও হয়। তাই নগ্ন হয়ে ঘুমনোর উপকারিতা রয়েছে অনেকগুলি। তবে নগ্ন হয়ে ঘুমনোর ফলে আয়ু বৃদ্ধি সম্ভবপর নয় বলেই মনে করছেন গবেষকরা।
