দু'টি মানুষ একসময় ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন। একছাদের তলায় ভালোবাসার ছাদ গড়েছিলেন তাঁরা। দুই থেকে তিন হয়েছেন। কত হাসি, কত সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতি। তারপরেও সম্পর্কে শীতলতা। নিত্য়দিনের অশান্তি। যে মানুষটা ছিল একসময় সবচেয়ে কাছের। সেই মানুষটাই যেন আজ চোখের বালি। আর কিছুতেই একসঙ্গে থাকা যাচ্ছে না। মনে হচ্ছে, বিচ্ছেদই একমাত্র পথ। কিন্তু খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্ককে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে শুধুমাত্র সন্তানের মুখ চেয়ে। বারবার মনে হচ্ছে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ কীভাবে নেবে সে? স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চাওয়া বহু মা-ই এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবা-মায়ের শীতল দাম্পত্য মোটেও ভালোভাবে মানতে পারে না খুদেরা। বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, মানসিক অবসাদে ভুগছে ছোটরা। আপনিও কি 'একলা মা'? একই টানাপোড়েন ভুগছেন? কীভাবে সন্তানকে বোঝাবেন, আপনার জন্য রইল টিপস।
সন্তানকে বড় করে তোলার জন্য় বাবা-মাকে সমানভাবে প্রয়োজন। তার জীবনে দু'জনেরই গুরুত্ব রয়েছে। তবে অসুখী দাম্পত্য মোটেও ভালো কথা নয়। তাই বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বারবার ভেবে নিন যা করছেন তা ঠিক করছেন তো। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের জন্য আফশোস করবেন না তো। মনে রাখবেন, সম্পর্ক ভাঙা সহজ। গড়তে সময় লাগে অনেক বেশি।
- দাম্পত্য অশান্তি খুদের থেকে দূরে রাখাই ভালো। তার সামনে চিৎকার, চেঁচামেচি, একে অপরকে দোষারোপ করবেন না। তাতে খুদের আতঙ্ক তৈরি হয়। যা মানসিক অবসাদ তৈরিরও কারণ হয়ে উঠতে পারে।
- বিচ্ছেদই যে আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিতব্য়, তা সন্তানকে স্পষ্টভাবে বোঝান। তাকে কিছু লুকোবেন না। ধীরে ধীরে মানসিক প্রস্তুতি নিতে দিন। তাকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত কিনা।
- বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে তার নানা কৌতূহল তৈরি হতে পারে। সে আপনাকে নানা প্রশ্নও করতে পারে। কখনও বিরক্ত হবেন না। যা হচ্ছে, সহজভাবে তার মতো করে বুঝিয়ে বলুন।
- বহু সন্তান ভাবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের জন্য সে দায়ী। তাকে বোঝান এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। দু'টি মানুষের বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এছাড়া আর কেউ দায়ী নয়। তাকে বোঝান স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ হলেও, আজীবন দু'জনে আপনারা তাঁর বাবা-মা থেকে যাবেন। তাই সে চাইলে পাশে পাবে দু'জনকেই।
- বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে বহু খুদের আচরণগত পার্থক্য তৈরি হয়। আচমকা বাবা-মায়ের সম্পর্কের সমীকরণ বদলে সন্তান খিটখিটে হয়ে যায়। হিংস্রও হয়ে ওঠে কেউ কেউ। তাই তাকে বেশি করে সময় দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- আপনি তার দুঃখ বুঝতে পারছেন, সেকথা বলুন। তাতে সে বুঝতে পারবে আপনিও তার যন্ত্রণার সঙ্গী। এরপর তাকে বোঝান এই সমস্যা নিয়ে ভেবেচিন্তে দিন কাটালে হবে না। ধীরে ধীরে এই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা কমাতে হবে।
