খুদের পৃথিবীই যেন মা। একটা সময় পর্যন্ত মাকে ছাড়া আর কিছুই বোঝে না ছোট্ট ছেলে। আর মা-ও সন্তানকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারেন না। সেই সময় দু'জনেই যেন দু'জনের পরিপূরক। মা তাকে বড় করার পাশাপাশি নানা শিক্ষাও দিতে থাকেন। যাতে বড় হয়ে একজন মানুষের মতো মানুষ হয় খুদে। তবে জানেন কি, হাতে ধরে সব কিছু শেখাতে হয় না। মাকে দেখেও নানা শিক্ষা পায় সন্তান।
Advertisement
- মায়ের কথা শুনে বুলি ফোটে খুদের মুখে। মা কথোপকথনের সময় কোন শব্দটি কখন ব্যবহার করছেন, সেদিকে খেয়াল রাখেন। সেইমতো সেসব শব্দ ব্যবহার করে। তাই প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, খুদের সঙ্গে আধো আধো বুলিতে কথা বলবেন না। স্পষ্ট উচ্চারণ করুন। তাতে সে-ও স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলতে শিখবে।
- বড়রা আবেগকে সামাল দিতে পারেন। তাঁরা জানেন, আবেগের বহিঃপ্রকাশ কোথায় কেমন হওয়া উচিত। প্যারেন্টিং বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন শিশুপুত্র মায়ের কাছ থেকে আবেগের বহিঃপ্রকাশের ধরনের শিক্ষা পায়। মা কোন পরিস্থিতিতে কেমন আচরণ করছেন, তা তারা খেয়াল রাখে। পরবর্তীকালে তেমন আচরণ করে।
- মা যেন দয়া, মায়া, মমতার প্রতীক। তাই তাঁকে দেখে সংবেদনশীল হতে শেখে খুদে। সন্তান যদি দেখে অন্যের বিপদে আপদে মা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, তবে সে-ও পরোপকারী তৈরি হয়। সকলকে নিয়ে বাঁচার শিক্ষাও মায়ের থেকেই পায় সন্তান।
- বহু সন্তানই তার মায়ের জীবনযুদ্ধের সাক্ষী। সে দেখে কীভাবে মা সমস্ত বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন। মায়ের এই লড়াই তাকে লড়াকু হতে শেখায়। কীভাবে ব্যর্থতার যন্ত্রণা পেরিয়ে আবার নতুন করে জীবনযুদ্ধে এগিয়ে যেতে হয়, সে শিক্ষাই দেন মা।
- মাকে দেখে সে শেখে কীভাবে মহিলাদের সম্মান করা উচিত। মায়ের আত্মসম্মানবোধ তাঁকে আত্মসম্মানবোধ শেখায়। মা অপরকে যতটা সম্মান করেন, তা দেখে সে শেখে কীভাবে অন্যকে সম্মান দিতে হবে। কার সঙ্গে ঠিক কেমন ব্যবহার করা যায়।
- পারিবারিক নানা সমস্যা মেটাতে মা ঠিক কেমন আচরণ করেন কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রাখতে কেমন আচরণ করেন, তা দেখেই বড় হয় খুদে। তার ফলে সে-ও ঠিক সেভাবেই আগামিদিনে পারিবারিক সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
- আপনি পরিবারের সকলের এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কে কী ভাবেন, তার ছাপও পড়ে আপনার খুদে সন্তানের মধ্যে।
তাই সেকথা মাথায় রেখে এগিয়ে চলুন। মা হওয়ার পর যা করছেন, তা ভেবেচিন্তে করুন। মনে রাখবেন, আপনি যা করবেন, ঠিক সেভাবেই বড় হবে সন্তান।
