ছিপছিপে চেহারা, গায়ের রং ফর্সা হলেই সুন্দরী। আর তা না হওয়া মানেই একেবারে কুৎসিত। প্রতিনিয়ত শারীরিক গঠন কিংবা গায়ের রং নিয়ে নানা খোঁটা শুনে ক্ষতবিক্ষত হয় আট থেকে আশি সকলেই। যার পোশাকি নাম 'বডিশেমিং'। অনেকেই তা শুনে বেশ মুষড়ে পড়েন। বিশেষত ঠিক কৈশোরে যারা এমন হেনস্তার শিকার হয় অনেক সময় তাঁদের আত্মবিশ্বাস ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তাই এই সময় বাবা-মায়েদের অবশ্যই কিশোর সন্তানের পাশে থাকা প্রয়োজন। জেনে নিন আধুনিক প্যারেন্টিং অনুযায়ী ঠিক কীভাবে মনের জোর জোগাবেন সন্তানকে।
- সন্তানকে বোঝান তাঁর শারীরিক গঠন, গায়ের রং সবটাই অত্যন্ত ব্যক্তিগত। তা নিয়ে সকলে আলোচনা করতে পারে না। আর যদি কেউ এই কাজ করে থাকে, তবে তার সেই কথায় কান না দেওয়াই উচিত। নিন্দুকের যোগ্য জবাব, তাকে এড়িয়ে চলা।
- স্কুল, প্রাইভেট টিউশন কিংবা অনেক সময় পরিবারের লোকজনের কাছে 'বডিশেমিং'য়ের শিকার হয় অনেকেই। সে আঘাত সহ্য করতে না পেরে অনেকেই একেবারে চুপচাপ হয়ে যায়। সন্তানকে বলুন আপনি যেকোনও পরিস্থিতিতে পাশে রয়েছেন। তাই কাউকে না বললেও মনের কোণে জমা হতে থাকা দুঃখের কথা যেন অবশ্যই আপনাকে সে জানায়।
- 'দেহ পট সনে নট সকলই হারায়', রূপ যে চিরস্থায়ী নয় তা আর কার অজানা। এই গূঢ় সত্য সন্তানকে বোঝান। তাকে বুঝিয়ে বলুন, গুণই সব। তাই এসব ফালতু কথায় কান না দিয়ে নিজের জীবনে এগিয়ে চলার মন্ত্রই দিন কিশোর সন্তানের কানে।
- সন্তানকে বোঝান এখন তার বৃদ্ধির সময়। দেহের নানা পরিবর্তন আসাই স্বাভাবিক। এগুলি জীবনের বিশেষ পর্যায়। এই সময়ে কারও কথা ভেবে মনখারাপ না করে জীবনকে উদযাপনের পাঠ দিন কিশোর সন্তানকে।
- অযথা সন্তান যেন কোনও কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। দৈহিক গঠন নিয়ে যে হাসিঠাট্টা করছে, তার কোনও নৈতিকতাবোধ তৈরি হয়নি বলে সন্তানকে বোঝান। তাতে তার নীতিবোধও জন্মাবে।
বর্তমানে পরিবার একেবারে ছোট। তার উপর আবার বেশিরভাগ বাবা-মা কর্মরত। তার ফলে দিনের বেশিরভাগ সময় পরিচারিকার কাছে কিংবা ক্রেশে কেটে যায় খুদেদের। নানা মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আধুনিক ডিজিটাল যুগে তাই প্যারেন্টিং যথেষ্ট কঠিন। তাই কোনও সমস্যা দেখা দিলে সন্তানের পাশে থাকুন। বুক দিয়ে আগলে রাখুন তাকে। নইলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
