বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অধিকাংশ দম্পতিই কর্মরত। ঘুম ভাঙা থেকে ফের রাতে বিছানায় যাওয়া পর্যন্ত চলে ইঁদুর দৌড়। কেরিয়ারের দিকে নজর দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন বলেও যে কিছু আছে তা ভুলতে বসেন প্রায় সকলেই। যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে দাম্পত্যে। এক ছাদের নিচে থেকেও যে কখন দুটো মানুষ একে অন্যের থেকে অনেকটা দূরে চলে যায়, তা বুঝতেও পারেনা তাঁরা। যখন বোঝেন, তখন সবটা হয়তো হাতের বাইরে! তবে শত ব্যস্ততার মাঝেও সম্পর্ক সুস্থ ও হেলদি রাখার উপায় কিন্তু রয়েছে সকলের হাতেই, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেই উপায়গুলো কী কী।
১. ব্যস্ততা জীবনের অঙ্গ, তা থাকবেই। এর জন্য স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়ালে চলবে না। মনে রাখবেন সঙ্গীর মনের কথা জানার জন্য কিন্তু প্রতিমুহূর্তে তাঁর সঙ্গে কথা বলার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং বুঝে নিন তাঁর মনের কথা। অর্থাৎ ধরুন দেখলেন বিধ্বস্ত হয়ে সঙ্গী বাড়ি ফিরেছেন। তখন কফি খাবে কি না, তা জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই। বরং দু'কাপ কফি হাতে সঙ্গীর কাছে চলে যান। বাইরে ডিনারের প্ল্যান করুন। এসব ক্ষেত্রে কিন্তু পরামর্শ নয়, সারপ্রাইজ পেতেই পছন্দ করেন যে কেউ।
২. যে কোনও সফল সম্পর্কের মূল হল স্পষ্ট কথোপকথন। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায়, সমস্যা বা আপত্তির কথা সরাসরি না জানিয়ে সঙ্গীকে খোঁচা দিয়ে কথা বলেন অনেকে। 'তোমার আমার জন্য সময় নেই', 'তোমার জীবনে আমার থেকে কাজ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ', এই ধরণের অভিযোগ শোনা যায় প্রতি ঘরে। কিন্ত জানেন কি কথার ধরন বদলালেই সম্পর্ক অনেক বেশি মজবুত হয়। যদি সঙ্গীকে বলেন, 'আমি তোমাকে মিস করি, তোমার সঙ্গ চাই', তা কিন্তু দাম্পত্যের ভীত পোক্ত করে।
৩. অনেকেই বিয়ের পর সঙ্গীর উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এটা কিন্তু সুখী দাম্পত্যের পরিপন্থী। জীবনের প্রতিক্ষেত্রেই স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ভূমিকাই সমান হওয়া বাঞ্চনীয়। নিজের স্বত্তাকে হারিয়ে ফেলবেন না। কাজ, বন্ধুবান্ধব, নিজের শখ সবকিছুকে সঙ্গে নিয়েই এগোবেন। তবে সেগুলোর জন্য সঙ্গীকে অবহেলা করাও চলবে না।
৪. সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানসিক বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময় কম দিলেও যদিও মানসিক দিক থেকে কাছাকাছি থাকেন তাহলে ভাবনার কোনও কারণ নেই। অন্যথায় এক নিয়মিত দীর্ঘ সময় একে অপরের সঙ্গে কাটানোও কিন্তু অর্থহীন।
প্রতীকী ছবি
৫. কাজের চাপে সব সময় সঙ্গীর সঙ্গে থাকা কারও পক্ষেই সম্ভব হয় না। দেখা যায়, বিশেষ দিনগুলোতেও হয়তো দু'জন থাকেন দুপ্রান্তে। তবে শারীরিকভাবে একসঙ্গে থাকতে না পারলেও মানসিকভাবে প্রতিমুহূর্তে সঙ্গীকে সঙ্গ দিন। যতটুকু সময় তাঁর সঙ্গে থাকবেন, সেখানে আর পরিবার ছাড়া কাউকে অ্যালাউ করবেন না। কাজকে তো ভুলেও নয়।
৬. দোষে-গুণে মানুষ। ভুল-ত্রুটি যেমন সকলেই করেন, তেমন দেখা যায় বাহবা পাওয়ার তালিকাও থাকে অনেককিছু। ব্যস্ততার কারণে সঙ্গীর সেই গুণ, ত্যাগকে এড়িয়ে যান অনেকেই। কেউ আবার ইচ্ছে করেই গুরুত্ব দেন না স্বাভাবিক প্রবৃত্তি ভেবে। এই ভুলটা করবেন না। সঙ্গীর প্রশংসা করুন। দেখবেন শত ব্যস্ততার মাঝে আপনার একটু প্রশংসা সঙ্গীর গোটা দিনটা সুন্দর করে তুলবে।
