নবদ্বীপ এক অন্য আধ্যাত্মিক আবহে জেগে উঠল গতকাল। উপলক্ষ ছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫৪০তম আবির্ভাব মহোৎসব এবং গৌড়ীয় মঠের দোলযাত্রা। ভোরের আলো ফুটতেই শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টানাদ আর নাম-সংকীর্তনের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। বসন্তের এই বিশেষ দিনে ভক্ত সমাগমে তিল ধারণের জায়গা ছিল না আশ্রমে।
নাম-সংকীর্তনে মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
উৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা আশ্রম চত্বর সাজানো হয়েছিল সুগন্ধি ফুল, বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং বৈষ্ণব পতাকায়। ভোরবেলা মঙ্গল আরতির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরই শুরু হয় শ্রীচৈতন্যের মহা অভিষেক। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, এমনকী বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত এদিন নবদ্বীপে ভিড় জমিয়েছিলেন। ভক্তদের পরনে ছিল সাদা বা গেরুয়া বস্ত্র, কপালে তিলক এবং হাতে জপমালা। প্রত্যেকের মুখে তখন কেবলই ‘হরিবোল’ ধ্বনি।
এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ৫৪০টি প্রদীপ প্রজ্বলন।
এবারের উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ৫৪০টি প্রদীপ প্রজ্বলন। গৌড়ীয় মিশনের আচার্য্য ও সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ জানান, আজ থেকে ঠিক ৫৪০ বছর আগে এক চন্দ্রগ্রহণের দিনে মহাপ্রভুর আবির্ভাব ঘটেছিল। কাকতালীয়ভাবে এ বছরও সেই বিশেষ তিথিটি মিলে যাওয়ায় উৎসবের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। এই শুভক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতেই ৫৪০টি প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। ছোট ছোট শিশু থেকে শুরু করে মহিলারা— লাল-সাদা বসনে সেজে এদিন উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনিতে আকাশ-বাতাস ভক্তিময় করে তোলেন।
নবদ্বীপের অলিগলি এদিন ছিল কৃষ্ণনামে বিভোর।
প্রদীপ যাত্রা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভক্তদের ঢল নেমেছিল গঙ্গাতীরে। বর্তমান বিশ্বের অশান্ত পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে সন্ন্যাসী মহারাজ বলেন, “আজকের বিশ্বে যখন হিংসা ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন শ্রীচৈতন্যের প্রেম ও ঐক্যের শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।” জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এই মহামিলনের উৎসব আবারও প্রমাণ করল যে, মহাপ্রভুর প্রদর্শিত ভক্তিপথ আজও প্রাসঙ্গিক। দিনভর নানা অনুষ্ঠানের পর প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। নবদ্বীপের অলিগলি এদিন ছিল কৃষ্ণনামে বিভোর।
