দোল ও হোলি অপেক্ষায় থাকে গোটা দেশ। এইদিনে বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সঙ্গে রঙ খেলার পাশাপাশি থাকে দেদার খাওয়াদাওয়া। কিন্তু জানেন কি রঙের উৎসব যতই আনন্দের হোক না কেন, তার আগের কয়েকটি দিন কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টিকে ধরা হয় অশুভ। যা হোলাষ্টক নামে পরিচিত। জ্যোতিষশাস্ত্র বলে, হোলির আগের আটদিন কোনও শুভ কাজ না করাই ভালো। তাতে ঘটতে পারে ভয়ংকর বিপদ। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক, কী এই হোলাষ্টক, কীভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
হোলির আগের আটদিন এই কাজগুলো করবনে না।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী হোলি ও অষ্টক, এই দুটি শব্দ নিয়ে তৈরি হয়েছে হোলাষ্টক। ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত, অর্থাৎ আটদিন চলে এই হোলাষ্টক। বলা হয়, এই দিনগুলোতে নাকি রণংদেহি মেজাজে থাকে গ্রহরা। সেই কারণেই শুভ কাজ করলেও তা হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। জ্যোতিষবিদদের দাবি, হোলাষ্টকের সময় অষ্টমীতে উগ্র হয় চন্দ্র, নবমীতে সূর্য, দশমীতে শনি, একাদশীতে শুক্র, দ্বাদশীতে বৃহস্পতি, ত্রয়োদশীতে বুধ, চতুর্দশীতে মঙ্গল ও পূর্ণিমায় রাহু।
এই আটদিন কী করবেন না
১. যদি বাড়ি, গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকে, এই সময় তা করবেন না। যাদের বাড়ি তৈরির কাজ চলছে তাঁরা এই হোলাষ্টকের সময় বন্ধ রাখুন কাজ।
২. এই আটদিনে বিয়ে, নামকরণ, গৃহপ্রবেশ করবেন না ভুলেও।
৩. যজ্ঞ করবেন না। নতুন ব্যবসা শুরুর পরিকল্পনা থাকলে এই কটা দিন বাদ দিয়েই করুন।
এই আটদিন কী করবেন
১. দান করুন। কাউকে খালি হাতে ফেরাবেন না। অন্ন ও অর্থ দান করুন। দরিদ্রের পাশে দাঁড়ান। দেখবেন সুখ-সমৃদ্ধি উপচে পড়বে।
২. হনুমান চালিশা ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করুন। বজরংবলীর আশীর্বাদে সুন্দর হবে জীবন।
জ্যোতিষবিদদের কথায়, এই দিনগুলোতে কয়েকটি রাশি জাতকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচেতনতা প্রয়োজন। মেষ ও বৃশ্চিক রাশির জাতকদের আর্থিক টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। কর্কট রাশির জাতকদের দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন। কুম্ভরাশির জাতকরা পড়তে পারেন দুর্ঘটনার কবলে।
