সাজানো সংসারে আচমকা ঝড়? চাকরিতে সমস্যা? রোগভোগ থেকে কিছুতেই মুক্তি মিলছে না? এসব পরিস্থিতিতে অধিকাংশই ধরে নেন কারও না কারও কুদৃষ্টি পড়েছে। যার জেরে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে নিজের চারপাশ। কেউ কেউ সঠিক দিশা পেতে জ্যোতিষের দ্বারস্থও হন। কিন্তু সত্যিই কি কুনজর বলে কিছু হয়? সত্যিই কি কারও নেতিবাচক চিন্তাভাবনা অন্যের সাজানো জীবন ছারখার করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? নাকি সবটাই কুসংস্কার?
গ্রামের দিকে এখনও নজর কাটাতে লঙ্কা পোড়া দেন ঠাকুমা-দিদিমা।
তথ্য বলছে, কুনজরের ধারণার জন্ম বহু আগে। গ্রিস ও রোমে বহু যুগ আগেই লোকেরা কুদৃষ্টিকে ভয় পেত। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, বাচ্চারা অকারণে কান্নাকাটি করলে, সংসারে অশান্তি হলেও মনে করা হত কারও ঈর্ষা থেকে জন্ম নেওয়া কুজরের জেরেই এসব ঘটছে। সময় বদলেছে। কিন্তু আজও কুনজরের ধারণা থেকে বেরতে পারেনি বহু মানুষ। দেখা যায় গ্রামের দিকে বাচ্চারা না খেতে চাইলেও ধরে নেওয়া হয় কারও নজর লেগেছে। মুক্তি পেতে লঙ্কা পোড়া দেওয়া হয়। বর্তমান সময়ে বহু মানুষের পা ও হাতে দেখা যায় কালো সুতো, এর কারণও সেই নজর। গাড়িতে লেবু-লঙ্কাও ঝোলানো হয় শুধুমাত্র নজর কাটাতেই। এরকম হাজার হাজার উদাহরন রয়েছে।
আসলে মানুষ অনিশ্চয়তাকে ভয় পায়। কোনও খারাপ কিছু ঘটলেই যে কেউ তাঁর নেপথ্যে যুক্তি সাজিয়ে ফেলেন স্রেফ নিজেকে সান্ত্বনা দিতে। আর এক্ষেত্রে যদি সমস্যার দায় অন্যের কাঁধে ঠেলে দেওয়া যায় তাহলে আত্মতুষ্টি হয়। সেই কারণেই আজও মানুষ কুনজরে বিশ্বাস করেন বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।
কিন্তু মনস্তত্ব বলছে অন্য কথা। আসলে মানুষ অনিশ্চয়তাকে ভয় পায়। কোনও খারাপ কিছু ঘটলেই যে কেউ তাঁর নেপথ্যে যুক্তি সাজিয়ে ফেলেন স্রেফ নিজেকে সান্ত্বনা দিতে। আর এক্ষেত্রে যদি সমস্যার দায় অন্যের কাঁধে ঠেলে দেওয়া যায় তাহলে আত্মতুষ্টি হয়। সেই কারণেই আজও মানুষ কুনজরে বিশ্বাস করেন বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের। নিজে কোনও সমস্যায় পড়লেই তার দায়টা অন্যকে দিয়ে দিলেই মেলে মানসিক শান্তি! চিকিৎসার ভাষায় এই বিষয়টাকে বলা হয় প্লাসিবো প্রভাব। আসলে সব মানুষই কিছু বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে ভালোবাসে। যা ঠিক ভুলের উর্ধ্বে।
