shono
Advertisement
Bipadtarini Puja 2026

বিপদের মেঘ কাটবে সংসারে, জুলাইয়ের কোন দু'দিন করবেন বিপত্তারিণী ব্রত?

দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের অন্যতম সঙ্কটনাশিনী রূপ হলেন মা বিপত্তারিণী। দেবীর আশীর্বাদে কাটে জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি। বিশ্বাস ও ভক্তির আবহে এবছর জুলাইয়ে ফের ঘরে ঘরে মা বিপত্তারিণীর আবাহন। কবে সেই তিথি?
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 02:45 PM Jul 07, 2026Updated: 02:56 PM Jul 07, 2026

আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে নয়, বিপত্তারিণী ব্রত আসে রথ ও উলটোরথের মাঝের তিথিতে। মধ্যবিত্ত বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। তার মধ্যে এটি অন্যতম। সংসারে মেঘভাঙা বিপদের হাত থেকে পরিবারকে কে না রক্ষা করতে চায়? দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের অন্যতম এক সঙ্কটনাশিনী রূপ হলেন মা বিপত্তারিণী। দেবীর আশীর্বাদে কাটে জীবনের সকল বাধা-বিপত্তি। বিশ্বাস ও ভক্তির আবহে এবছর জুলাইয়ে ফের ঘরে ঘরে মা বিপত্তারিণীর আবাহন।

Advertisement

ছবি: সংগৃহীত

দিনক্ষণ ও নির্ঘণ্ট
প্রতি বছরের মতো এবারও দু’দিন ধরে আপামর বাঙালি মেতে উঠবে দেবীর আরাধনায়। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার বলছে, জুলাই মাসেই পড়েছে এই পুজো। আগামী ১৮ জুলাই (১ শ্রাবণ), শনিবার এবং ২১ জুলাই (৪ শ্রাবণ), মঙ্গলবার নিষ্ঠাভরে পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত। রথযাত্রা থেকে উলটোরথের মাঝের এই বিশেষ শনিবার ও মঙ্গলবারই ব্রতের জন্য প্রশস্ত।

'তেরো'র মহিমা ও উপচার
বিপত্তারিণী পুজোর মূল চালিকাশক্তি হল '১৩' সংখ্যাটি। এই পুজোয় সবকিছুই অর্পণ করতে হয় তেরো সংখ্যার হিসেবে। পুজোর থালায় সাজিয়ে রাখতে হয়— ঘট, আম্রপল্লব, শীষযুক্ত ডাব, একটি বিশেষ নৈবেদ্য এবং প্রধান অঙ্গ ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো। সঙ্গে থাকবে ১৩টি দূর্বা, ১৩ রকমের ফুল, ১৩ রকমের ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি। ভক্তিভরে এই উপচার সাজালেই সন্তুষ্ট হন মা।

ব্রতকথা ও নিয়মকানুন
ব্রতের আগের দিন থেকেই শুরু হয় সংযম। আগের দিন সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। পুজোর দিন উপবাস থেকে মায়ের চরণে পুজো দিতে হয়। অঞ্জলি শেষে ব্রতীরা প্রসাদ গ্রহণ করেন। তবে এই প্রসাদেরও রয়েছে নিয়ম। চাল বা গমের তৈরি খাবার এদিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ১৩টি লুচি ও ১৩ রকমের ফল খেয়েই উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। পুজো শেষে সেই বহুকাঙ্ক্ষিত ১৩ গিঁটের লাল সুতো বা ‘ডোর’ ধারণের পালা। নিয়ম অনুযায়ী, মহিলারা বাম হাতে এবং পুরুষরা ডান হাতে এই পবিত্র সুতো বাঁধেন। অন্তত তিন দিন এই ডোর ধারণ করা আবশ্যিক।

ছবি: সংগৃহীত

আচার ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা
শাস্ত্র মতে, এই ব্রত পালনের কিছু কঠোর বিধি-নিষেধ রয়েছে, যা লঙ্ঘন করলে রুষ্ট হন দেবী।

১) পুজোর সময় সম্পূর্ণ মৌনতা অবলম্বন করতে হয়। কারও সঙ্গে কথা বলা নিষিদ্ধ।

২) ঘরের পরিবেশ রাখতে হবে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন। কোনও নোংরা স্থানে পুজো করা চলবে না।

৩) এই দিনে পরিবারের কাউকে অপমান করা বা নারীদের প্রতি কুরুচিকর মন্তব্য মহাপাপ।

৪) ঘরের বাইরে কোনও ব্যক্তিকে অর্থ ধার দেওয়া বা নিজে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৫) এদিন কাউকে চিনি দেওয়া নিষেধ। কারণ চিনি দান করলে শুক্র গ্রহ দুর্বল হয় এবং সংসারে আর্থিক সংকট নেমে আসে।
৬) পরিবারের কোনও সদস্যের মদ্যপান এদিন কঠোরভাবে বর্জনীয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement