ভাদ্রের অমানিশা ঘন হতেই মহাপীঠ তারাপীঠে শুরু হয় মহাজাগরণ। সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। ভক্তদের বিশ্বাস, এই অলৌকিক তিথিতে মা তারার দ্বারে কড়া নাড়লে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এ বছর ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার পড়েছে এই পুণ্য তিথি। চলবে পরদিন সকাল পর্যন্ত। তবে তারাপীঠে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে এক অদ্ভুত ও কঠিন নিয়ম। সাধকদের মতে, তারা মায়ের পুজোয় খালি পেটে থাকা ঘোর নিষিদ্ধ।
ফাইল ছবি
উপবাসে বিপদের আশঙ্কা কেন?
সাধারণত সনাতন ধর্মে উপবাস রেখে দেব-দেবীর আরাধনা করাই রীতি। তবে বীরভূমের এই সিদ্ধপীঠে সেই নিয়ম ভিন্ন। তন্ত্রমতে, কৌশিকী অমাবস্যার রাত হল ‘তারারাত্রি’। এই সময় ব্রহ্মাণ্ডে শুভ ও অশুভ— উভয় শক্তির দ্বারে আলোড়ন ওঠে। পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। খালি পেটে থাকলে শরীরে প্রাণশক্তি বা ‘উর্জা’ কমে যায়। ফলে শ্মশানভূমির নেতিবাচক শক্তি দুর্বল শরীর ও মনকে সহজেই কবজা করতে পারে। তাই শরীরকে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখতে প্রসাদ গ্রহণ করেই মায়ের দরবারে যাওয়া বিধেয়।
ফাইল ছবি।
বামাচারী সাধনা ও সিদ্ধি
তারাপীঠের দেবী কেবল শিবজায়া নন, তিনি মহাসাধকের আনন্দময়ী মা। এই কৌশিকী অমাবস্যাতেই শ্বেতশিমূলের তলে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। দেখা পেয়েছিলেন তারা মায়ের করুণাময়ী রূপের। সেই থেকে এই তিথিতে দেবী রূপ ধারণ করেন ‘রাজবেশে’।
ফাইল ছবি
অন্নপূর্ণা রূপ ও মাতৃভাব
তন্ত্রমতে বামাচারী সাধনায় দেবী তারা হলেন ভৈরব রূপিণী। কিন্তু সন্তানকে তিনি কখনও উপবাসী দেখতে চান না। মা যেখানে সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা, সেখানে সন্ততি অনাহারে থাকলে তা শাস্ত্রেও অনুচিত বলে গণ্য হয়। তাই পেট ভরে ভোগ বা মহাপ্রসাদ খেয়ে মায়ের চরণ স্পর্শ করাই তারাপীঠের প্রাচীন প্রথা। পরম ভক্তিভরে প্রসাদ গ্রহণের পর 'জয় তারা' নাম জপ করলেই কেটে যায় জীবনের সব অমঙ্গল ও বিঘ্ন।
