shono
Advertisement
Durga Puja Lifestyle

শুভ না অশুভের প্রতীক মহালয়া? কী বলছে শাস্ত্র

মহালয়া নিয়ে নানা ব্যাখ্যা, নানা মত রয়েছে।
Published By: Subhankar PatraPosted: 04:59 PM Sep 13, 2025Updated: 04:59 PM Sep 13, 2025

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: টলমলে নদীর জলে নীল-সাদা আকাশের প্রতিচ্ছবি। শিউলের গন্ধ। কোমল ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অনির্বচনীয় কণ্ঠস্বরে বেজে ওঠা, 'আশ্বিনের শারদপ্রাতে...', সুরে বাঙালির জীবনে শুরু হয় মহালয়া।

Advertisement

পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনালগ্নটি মহালয়া হিসেবে চিহ্নিত। মহালয়া অর্থাৎ মহান যে আলয়, এই কথাটির ব্যাখ্যা নানাভাবে করেছেন প্রাজ্ঞজনেরা। যেহেতু মহালয়া থেকেই দেবী দুর্গার আবাহন মুহূর্তটি চিহ্নিত হয়ে যায়, তাই অনেকের মতে দেবী স্বয়ং হলেন এই আলয় বা আশ্রয়। ভিন্নমতে, এই মহান আলয় হল পিতৃলোক। যেহেতু এটি পিতৃপক্ষের অবসান চিহ্নিত করে। ঠিক এর পরদিন থেকে দেবীপক্ষের সূচনা।

পিতৃপক্ষের এক পক্ষকাল পিতৃপুরুষরা মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসে। পুরাণমতে, ব্রহ্মার নির্দেশেই গড়ে ওঠে এই মহামিলনক্ষেত্রটি। এই সময় তাই পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করে মানুষ। শাস্ত্রমতে, হিন্দুদের অবশ্য পালনীয় যে পঞ্চমহাযজ্ঞের বিধান রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হল পিতৃযজ্ঞ অর্থাৎ তর্পণাদি। এই তর্পণ কথার অর্থ হল, যাতে অন্যের তৃপ্তি হয় সেই উদ্দেশ্যে জলদান। তর্পণ তাই শুধু পিতৃপুরুষের উদ্দেশে নয়, সর্বভূতের উদ্দেশেই করতে হয়।

একই সঙ্গে পিতৃপক্ষের অবসানে, দেবীপক্ষের সূচনাও যেহেতু চিহ্নিত হয়, তাই মহালয়া অর্থে মা দুর্গাকেই আশ্রয় ধরা হয়। শাস্ত্রে কথিত আছে, এই দিনেই মহিষাসুর বধের দায়িত্ব গ্রহণ করেন দেবী দুর্গা। মহিষাসুরের কবল থেকে দেবগণকে উদ্ধার করার লগ্ন যেহেতু এখান থেকেই সূচিত হচ্ছে, তাই পরমা প্রকৃতি বিশ্বজননীর আশ্রয়ই হল মহান আলয়, এমত মত পোষণ করেন অনেকে।

মহালয়া শুভ না অশুভ, এনিয়েও তর্ক কম নেই। কেউ কেউ বলে থাকেন, এই দিনটি শুভ নয়। যেহেতু এইদিন পিতৃপুরুষের স্মরণ করা হয়, তাই প্রকৃতপক্ষে এ আসলে শোকের দিন। দিনটিকে সেহেতু শুভ বলে চিহ্নিত করা সঙ্গত নয়।

মতান্তরে, হিন্দু শাস্ত্রে যে কোনও শুভ কাজের সূচনাতেই পিতৃপুরুষকে স্মরণ বা তর্পণ করা হয়। যে রীতি হিন্দুর নিত্য পঞ্চমহাযজ্ঞের অন্তর্গত, তাকে অশুভ বলাও বাঞ্ছনীয় নয়। যদি তর্পণের বৃহত্তর অর্থটি ধরতে হয়, তা আসলে ইঙ্গিত দেয় জগৎব্যাপী এক মহামিলনক্ষেত্রের। মিলনের এই মুহূর্ত এবং তার উৎযাপন তাই কোনওভাবেই অশুভ হতে পারে না।

মহালয়া নিয়ে নানা ব্যাখ্যা, নানা মত রয়েছে। শুভ ও অশুভের দ্বন্দ্ব বা তর্কও ব্যক্তিগত প্রেক্ষিতের উপর নির্ভর করে। তবে, মহালয়ার ভিতর যে মহামিলনের ইঙ্গিত তা বৃহত্তর সম্প্রীতি আর মেলবন্ধনের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। তর্পণের মধ্য দিয়েও সর্বভূতের সঙ্গে মানবের একাত্মতার তত্ত্বটিই প্রকাশিত। এই তাৎপর্যই মহালয়াকে গরিমা দান করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • টলমলে নদীর জলে নীল-সাদা আকাশের প্রতিচ্ছবি। শিউলের গন্ধ।
  • কোমল ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অনির্বচনীয় কণ্ঠস্বরে বেজে ওঠা, 'আশ্বিনের শারদপ্রাতে...', সুরে বাঙালির জীবনে শুরু হয় মহালয়া।
  • পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনালগ্নটি মহালয়া হিসেবে চিহ্নিত।
Advertisement