সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সনাতন ধর্মে কালভৈরবকে মনে করা হয় দেবাদিদেব মহাদেবের রৌদ্র অবতার। ভক্তদের বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে তাঁর আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত বাধা ও নেতিবাচক শক্তি নিমেষেই দূর হয়। প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে পালিত হয় কালাষ্টমী। ২০২৬ সালের প্রথম কালাষ্টমী ব্রত নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, সংশয়ের কিছু নেই।
জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মাঘ মাসের এই অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ১০ জানুয়ারি, শনিবার সকাল ৮টা ২৪ মিনিটে। তিথিটি চলবে ১১ জানুয়ারি, রবিবার সকাল ১১টা ২১ মিনিট পর্যন্ত। যেহেতু কালাষ্টমীর প্রধান পুজো ও আচার 'নিশীথ কাল' অর্থাৎ মধ্যরাতে সম্পন্ন করা হয়, তাই ১০ জানুয়ারি শনিবারই ব্রত পালনের সঠিক সময়।
কালভৈরবের আশীর্বাদ পেতে ভক্তদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। এদিন সূর্যোদয়ের আগে স্নান সেরে ব্রতের সংকল্প নেওয়া জরুরি। পুজোর সময় শিব-পার্বতী ও কালভৈরবের মূর্তির সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো শুভ। ভৈরব বাবাকে জিলিপি কিংবা বিউলির ডালের বড়া নিবেদন করার রীতি প্রচলিত আছে।
কুকুর সেবায় পুণ্যলাভ
কালভৈরবের বাহন হল কুকুর। তাই কালাষ্টমীর দিনে কালো কুকুরকে মিষ্টি রুটি বা বিস্কুট খাওয়ালে অত্যন্ত সুফল পাওয়া যায় বলে মনে করেন ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। এটি গ্রহদোষ কাটাতেও সহায়ক।
মাহাত্ম্য ও ফললাভ
কালভৈরবকে বলা হয় ‘কাশীর কোতোয়াল’। ভক্তদের বিশ্বাস এই ব্রত পালনে অকাল মৃত্যুর ভয় এবং যে কোনও অমঙ্গল দূর হয়। গৃহ থেকে অশুভ দৃষ্টি ও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব মুছে যায়। কোষ্ঠীতে শনি, রাহু ও কেতুর কুপ্রভাব থাকলে কালাষ্টমীর পুজোয় বিশেষ শান্তি মেলে।
বছরের শুরুতে ভক্তিভরে এই ব্রত পালন করলে সারা বছর মানসিক শান্তি বজায় থাকে এবং শত্রুভয় থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অশুভ বিনাশ করে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পালিত হয় এই পবিত্র কালাষ্টমী।
