সরস্বতী পুজোর আগে কুল? নৈব নৈব চ! যারা পড়াশোনার পাট চুকিয়ে ফেলেছেন তাঁরাও পলাশপ্রিয়ার আরাধনার আগে কুল দাঁতে কাটেন না। পাছে বাগদেবী রুষ্ট হন। কারণ ছেলেবেলায় সকলের মনেই এইনিয়ে ভয়-ভীতি ঢুকিয়ে দেন অভিভাবকরা। পরবর্তীতে বয়স বাড়লেও এনিয়ে ধারণার বদল হয় না। ফলে সরস্বতী পুজোর আগে কেউই কুল খাওয়ার সাহস দেখান না। কিন্তু জানেন কী কেন এই সময়টায় কুল খেতে বারণ করা হয়? নেপথ্যে রয়েছে পৌরাণিক ও বৈজ্ঞানিক উভয় কারণই। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেগুলোই।
ফাইল ছবি।
কথিত আছে, কুল নাকি বাগদেবীর সব চেয়ে প্রিয় ফল। আমাদের দেশে যে কোনও ফসলই প্রথমে ইশ্বরকে নিবেদন করে তারপর তা খাওয়া হয়। কুলের ক্ষেত্রেও সেকথা ভেবেই এই নিয়ম তৈরি হয়েছে। মনে করা হত, দেবীর প্রিয় ফল কুল তাঁকে নিবেদন করে না খেলে তা অপমান করা। ছোটদের পক্ষে তা বোঝা সম্ভব নয়। সেই কারণে খুদেদের বলা হয়, পুজোর আগে কুল খেলে রুষ্ট হন দেবী।
আমাদের দেশে যে কোনও ফসলই প্রথমে ইশ্বরকে নিবেদন করে তারপর তা খাওয়া হয়। কুলের ক্ষেত্রেও সেকথা ভেবেই এই নিয়ম তৈরি হয়েছে।
তবে এত গেল ধর্মীয় কারণ। এর পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণও। কুল হয় শীতের শেষ ও বসন্তকালের শুরুর দিকে। সরস্বতী পুজোর সময় কুল কাঁচা থাকে। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এদিকে এই সময়টায় আবহাওয়ার কারণে এমনিতেই সর্দি-কাশি-জ্বর লেগে থাকে ঘরে ঘরে। তার মধ্যে কাঁচা কুল খেলে সর্দি-কাশি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। হতে পারে পেটের সমস্যাও। সেই কথা মাথায় রেখেও সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেতে বারণ করা হয়।
