যুগের হাওয়ায় ভর করে আমরা এগিয়ে গিয়েছে অনেকটাই। তবে সত্যি কি মানসিকভাবে অতটাই এগিয়েছি আমরা, এই প্রসঙ্গে অবশ্য নানা মুনির নানা মত। এই যেমন ধরুন এখনও একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর বিয়ে না হলেই যেন দুশ্চিন্তায় পড়ে যান অনেকে। বারবার সেই পুরুষ কিংবা মহিলাকে বিয়ে নিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষত অবিবাহিত মহিলারা এই প্রশ্ন শুনতে আর জবাব দিতে যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েন। জ্যোতিষীদের মতে, এই মহাশিবরাত্রিতে পুজো দিলেই মিটবে সমস্যা। কয়েকটি নিয়ম মানলে অবিবাহিতরা পেতে পারেন মনের মতো জীবনসঙ্গী।
- মহাশিবরাত্রিতে ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠুন। ঘর পরিষ্কার করে স্নান সেরে নিন।
- শরীর সঙ্গ দিলে দিনভর উপবাস করুন। পরদিন তিথি শেষে জল পান করুন।
- স্নানের পর শুদ্ধ বস্ত্র পরুন। কালো অথবা ধূসর রঙের পোশাক এদিন পরবেন না।
- মন্দির অথবা বাড়িতে পুজোর ঘর পরিষ্কার করে নিন। গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন ভালো করে।
গঙ্গাজল, দুধ, দই, মধু দিয়ে শিবলিঙ্গে জলাভিষেক করুন। - এরপর শিবলিঙ্গ চন্দন লাগান। বেলপাতা, এবং ধুতরো ফুল অর্পণ করুন।
- শিবলিঙ্গের সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে ধূপ দিন।
- শিবের সঙ্গে পার্বতী থাকলে সুগন্ধি অর্পণ করুন।
- প্রসাদ হিসাবে শিব-পার্বতীকে অর্পণ করুন ক্ষীর, মিষ্টি এং গুড়।
- পুজো শেষে শিবচালিশা অথবা শিবমন্ত্র পাঠ করুন।
- সবশেষে মহাদেবের সামনে জোড় হাত করে প্রণাম করুন। কেমন জীবনসঙ্গী চান, তা মনে মনে দেবাদিদেবকে জানান। তাতেই পাবেন ফল।
এবার মহাশিবরাত্রি পড়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৪ মিনিট থেকে পরদিন অর্থাৎ ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত চলবে। মহাশিবরাত্রিতে নিয়ম অনুযায়ী চার প্রহরে পুজো হয়।
প্রথম প্রহরের পুজোর সময়:
১৫ ফেব্রুয়ারি, সন্ধে ৬টা ১ মিনিট থেকে রাত ৯টা ৯ মিনিট পর্যন্ত।
দ্বিতীয় প্রহরের পুজোর সময়:
১৫ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯টা ৯ মিনিট থেকে রাত ১২টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত।
তৃতীয় প্রহরের পুজোর সময়:
১৬ ফেব্রুয়ারি, রাত ১২টা ১৭ মিনিট থেকে ভোররাত ৩টে ২৫ মিনিট পর্যন্ত।
চতুর্থ প্রহরের পুজোর সময়:
১৬ ফেব্রুয়ারি, ভোররাত ৩টে ২৫ মিনিট থেকে ভোর ৫টা ৩৪ মিনিট পর্যন্ত।
শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এই সময়ের মধ্যে ভগবান শিবের মাথায় জল ঢাললে শিব-পার্বতীর আশীর্বাদে পূর্ণ হবে জীবন।
