মাঝেমধ্যেই ধেয়ে আসে একের পর এক ঘূর্ণিঝড়। আয়লা ও আমফানের তাণ্ডব স্মৃতিতে আজও অমলিন। নদীভাঙন আর জলবায়ু পরিবর্তনের সাঁড়াশি আক্রমণে বিপন্ন সুন্দরবন (Sundarbans)। কমে গিয়েছে ম্যানগ্রোভের সবুজ। সেই সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এবার ঢাল হয়ে দাঁড়াল মাতলা নদী। উদ্যোগটি যৌথ। এগিয়ে এসেছে ‘উৎকর্ষে আরোহন’ ও ‘বিহান’ নামের দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। কৈখালী এলাকায় মাতলা নদীর পাড় জুড়ে রোপণ করা হল হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ চারা। পরিবেশবিদদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ কমে যাওয়া নিয়ে চিন্তিত। তাঁদের মতে, এই জঙ্গলই ঝড়ের গতি রোখে। নদীভাঙন রুখতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর নেই। সেই গুরুদায়িত্ব মাথায় নিয়েই এদিন মাঠে নেমেছিলেন উদ্যোক্তারা।
নিজস্ব ছবি।
এদিন মাতলার চরে রোপণ করা হল বাইন, কাঁকড়া এবং সুন্দরী প্রজাতির চারা। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলিকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকারও নিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শামিল হল কৈখালী রামকৃষ্ণ আশ্রমও। গাছের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁরাই। গ্রামবাসীদের সচেতন করতে চলল প্রচার।
নিজস্ব ছবি।
‘উৎকর্ষে আরোহন’-এর আহ্বায়ক অনুপম মজুমদার জানালেন, চারাগাছগুলির সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ‘বিহান’-এর সম্পাদক সৌমেন দাসের কথায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ রাখতে ম্যানগ্রোভ বাড়ানোর কোনও বিকল্প নেই। 'সুন্দরবনকে বাঁচাতে, মাতলা নদীর পাড়ে সুন্দরী তুলবে মাথা হাজারে হাজার'— এই স্লোগানকে সঙ্গী করেই শেষ হল দিনভর কর্মসূচি। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে মাতলার চরে বোনা হল এক টুকরো সবুজ ভবিষ্যৎ।
