নন্দন দত্ত, সিউড়ি: গরু পাচার মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mandal)। আপাতত বীরভূমের বেতাজ বাদশার ঠাঁই আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগার। তবে আজও যে দল তার পাশেই রয়েছে তার প্রমাণ মিলল বিজয়া সম্মিলনীতে। কারণ, সশরীরে না থাকলেও, অনুব্রতহীন রামপুরহাটে তৃণমূলের বিজয়া সম্মিলনীতে রাখা হয় তাঁর ছবি। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। “কেষ্টদা সবসময় পাশে রয়েছেন”, বলেই মন্তব্য তাঁর।
রামপুরহাট গার্লস স্কুলে বিজয়া সম্মেলনের ডাক দেয় তৃণমূল (TMC)। সেখানে অনুব্রত মণ্ডলের ছবি দিয়ে তৈরি করা হয় তোড়ণ। সম্মেলনের মূল বক্তা ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায় (Shatabdi Roy)। তিনি বলেন, “আমরা শুধু উৎসবে নয়। সারাবছর সকলের সঙ্গে থাকি, সকলের সঙ্গে জড়িত থাকি, কর্মীদের সহমর্মিতায় আমরা পরস্পরকে বেঁধে রাখি। তাই বিজয়া সম্মেলনে আলাদা করে কোনও বাড়তি উৎসব আমাদের করতে হয় না।” তিনি আরও বলেন, “হয়তো তিনি আজ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত নেই। তবে কেষ্টদাকে সঙ্গে রেখেই জেলার সংগঠন চলছে। তাই কেষ্টদার ছবি দিয়েই সম্মেলনের ব্যবস্থা। তাঁকে কেউ ভুলে যাননি। তাঁকে কেউ ছেড়ে যাননি। যেমন করে কেষ্টদা আমাদের মধ্যে ছিলেন, সেভাবেই তিনি আজও আছেন।”
[আরও পড়ুন: পিসির সঙ্গে প্রেম, অশান্তির জেরে ভাইপোর মৃত্যু! মহিলার চুল কাটল উত্তেজিত জনতা]
গরু পাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সাংসদ শতাব্দী রায় সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেই শোনা গিয়েছিল। কোনও অভিযোগ নেই বলেই নিজের অবস্থান স্পষ্টও করেছিলেন তিনি। বিজয়া সম্মেলনী শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সে প্রসঙ্গে আরও একবার মুখ খোলেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি বলেন, “যা বলার আদালতে বলব। মিডিয়া এ নিয়ে মহাভারত রচনা করছে। আমার মজা লাগছে।”
বিরোধীদের পর্যুদস্ত করতে একজোট হয়ে লড়াইয়ের বার্তাও দেন শতাব্দী। তিনি বলেন, “বিরোধীরা একটু ঠাঁই পাওয়ার জন্য মিথ্যা রটনা করছে। তাদের কোনও আসন নেই। অস্তিত্ব নেই। যা বলছে তার ৯০ শতাংশ মিথ্যা। শুধু ১০ শতাংশ যদি সত্যি হয় তার উপর ভর করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।” বৈদ্যুতিন মাধ্যমের আলোচনায় রাজনৈতিক বিজ্ঞদের কথা না শোনার পরামর্শও দেন শতাব্দী। তাঁর কথায়, “এখন টিভি শো দেখে মানুষ হাসে। মনে কোনও দ্বিধা রাখবেন না। নিজের মনকে দিয়ে সব বিচার করবেন। তারা এমন বিজ্ঞ বিজ্ঞ কথা বলেন যেন তারা সে বিষয়ে পিএইচডি করেছেন। তারা সত্যের থেকে কয়েকশো মাইল দূরে।” তাঁর মতে, “আজ এই মুহূর্ত পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উপর মানুষের যে বিশ্বাস, আস্থা, ভরসা রয়েছে তাতে কোনও বিরোধী দলের এই রাজ্যে ঠাঁই নেই। আপনারা লিখে রাখতে পারেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের নির্বাচনে জয়ী হবেন।”