সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ফুটবল খেলা কত মিনিটের? অবশ্যই নব্বই মিনিটের। দরকার হলে অতিরিক্ত সময়ে তা গড়াতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ে খেলা ফুরোলে এখন আর তা ফুরোয় না। খেলোয়াড়দের জন্য বরাদ্দ ওই নব্বই মিনিট। সমর্থকদের জন্য অবশ্য অফুরান সময়। আর সে লড়াই চলে নেটদুনিয়াতেই। যেমন ব্রাজিল ম্যাচের পরই ফেসবুকে ঘুরছে একটি ‘ইভেন্ট’। যেখানে বলা হচ্ছে নেইমারকে বারবার ট্যাকলের প্রতিবাদে নাকি নবান্ন ঘেরাও হবে।
[ বিশ্বকাপে আজ নজরে দুই কালো ঘোড়া, অভিযান শুরু ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামের ]
সমর্থকদের পারস্পরিক বাক্যবাণ বর্ষণ যদি না থাকে তবে মাঠের বাইরে খেলার মজাটাই মিইয়ে যায়। এমনকী খেলোয়াড়রাও জানেন, তাঁদের একটা ভুলের জন্য কতটা কটাক্ষ সইতে হয় তাঁদের অনুগামীদের। আর ব্যর্থ হলে তো কথাই নেই। সমালোচকদের থেকে যা শোনার শুনতে তো হবেই। এমনকী মুখ লুকোতে হবে তারকার ফ্যানদেরও। এ জিনিস আগেও ছিল। তবে সোশ্যাল মিডিয়া আসার পর তা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যে ট্রোল কখনও সখনও শালীনতার সীমা ছাড়ায়, তা যে বুদ্ধিদীপ্তও হতে পারে সমর্থকরাই তার নুমনা দেখাচ্ছেন। সুইসদের বিরুদ্ধে বারবার মাঠে পড়ে যাচ্ছিলেন ব্রাজিল সমর্থকদের চোখের মণি নেইমার। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। বড় খেলোয়াড়কে কড়া মার্কিংয়ে থাকতে হবে। এমনকী মারও খেতে হবে। মেসি-রোনাল্ডো কেউই ছাড় পান না। তবে নেইমারকে বোধহয় একটু বেশিই মার খেতে হল। ইসপিএন-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ২০ বছরে কোনও একটা ম্যাচে এতগুলো ফাউল আর কারও বিরুদ্ধে করা হয়নি। তার উপর নেইমার বোধহয় পুরোপুরি চোট কাটিয়েও উঠতে পারছিলেন না। ফলে অল্পেই পড়ে যাচ্ছিলেন। যা ছিল চোখে পড়ার মতোই। খেলা শেষ হওয়ার পর সকাল সকাল সমর্থকরা একে অন্যের বিরুদ্ধে যুক্তি খাড়া করতে নেমে পড়েছেন। ঠিক সেই সময় ফেসবুকের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরতে শুরু করল একটি ইভেন্ট। নেইমারকে বারবার ট্যাকলের প্রতিবাদে ঘেরাও হবে নবান্ন। কেন নবান্ন? এককালে রাইটার্স ঘেরাও করার চল ছিল। ইদানিং আমাদের বামেদের নবান্ন অভিযান আর এক বিনোদনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যবাসীর কাছে। কোনওবারই সে অভিযান সাফল্য পায় না, বিপ্লবের আধাখেঁচড়া সে চেহারা দেখে অতিবড় বামপন্থীও হাসি লুকোতে পারেন না। এদিকে আবার মুখ্যমন্ত্রীর নীল-সাদা প্রীতির কথাও সকলে জানেন। আর্জেন্টিনার রংয়ের সঙ্গে এই মিলও কৌশলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বুদ্ধিদীপ্ত ইভেন্ট আর্জেন্টিনার সমর্থকদের যে যারপরনাই তৃপ্তি দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
[ জানেন, কেন ম্যাচ সেরার ট্রফি নিতে অস্বীকার করলেন মিশরের গোলকিপার? ]
দুর্বল আইসল্যান্ডের গোলকিপারকে একা পেয়েও মেসি যেদিন পেনাল্টি মিস করলেন, সেদিনও মেসিকে নিয়েও ট্রোল কম হয়নি। তবে তার অধিকাংশই ছিল নিম্নরুচির। সে সবের মধ্যেই ভেসে উঠেছিল একটি পোস্ট। ফিরিয়ে এনেছিল অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়ের ‘ধন্যি মেয়ে’ ছবির সৃষ্টি। যেখানে উত্তমকুমার ফুটবলপাগল কালীপতি দত্ত হয়ে ভাইকে বলছেন, বগা বাইরে বল মার। আমরা পেনাল্টিটে গোল দিই না। কারণ তার আগেই পার্থ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়া ভাদুড়ির বিয়ে দিয়ে জহর রায় চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, পেনাল্টিতে গোল দিলেন, এবং সে গোল হজম করা ছাড়া উত্তমকুমারের দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই। হাড়ভাঙা শিল্ড জিতে তার বদলা নিয়েছিলেন কালীপতি দত্ত। বাঙালির সেই অহংকারের স্মৃতিকে ফিরিয়ে কটাক্ষ আর মৃদু হাসির ফুলকি মেশানো সে পোস্ট অনেকেরই মন ভরিয়েছিল।
এই তো সবে শুরু। সলতে পাকানোর পর্ব মাত্র। বিশ্বকাপের এখনও অনেক বাকি। ফলত এ ধরনের রসিকতার নমুনা যে আরও দেখা যাবে তা অনুমিতই বলা যায়। আর এসবের মধ্যেই মাঠের বাইরে টানটান চলবে বিশ্বকাপ যুদ্ধ।
The post নেইমারকে ট্যাকলের প্রতিবাদে নবান্ন ঘেরাও! নেটদুনিয়ায় টানটান বিশ্বকাপ যুদ্ধ appeared first on Sangbad Pratidin.
