সোম রায়: রাত পোহালেই সুপার কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। সামনে শিলং লাজং এফসি। অথচ মোহনবাগানকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। নামেই প্র্যাকটিস। তাতে বেশিরভাগ সময়ই হাসতে, আড্ডা দিতে দেখা গেল ডিকা, শিল্টনদের। যেন ম্যাচ বা প্রতিপক্ষ নিয়ে কোনও ভাবনাই নেই। সামনে যেই আসুক একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বুঝে নেওয়া যাবে। ড্রেসিংরুমের এই একাত্মতাই সুপার কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ভরসা মোহনবাগানের।
শহরে ফেরা নিয়ে ‘অশান্তি’, সুভাষের জন্য অপেক্ষা করে ক্ষিপ্ত লাল-হলুদ ফুটবলাররা
কথা ছিল সকাল ন’টা থেকে স্টেডিয়াম সংলগ্ন মাঠে প্রস্তুতি নেবে দল। কিন্তু তা পিছিয়ে করা হল এক ঘণ্টা পর। আসলে লাজংয়ের সঙ্গে খেলতে হবে বিকেল চারটায়। সেই সময় প্রখর রোদ। আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্র্যাকটিসের সময় বদলের সিদ্ধান্ত। কড়া রোদে ঘণ্টা দেড়েক প্র্যাকটিস করালেন কোচ শংকরলাল চক্রবর্তী। চোট কাটিয়ে দলে রিকির ঢোকা প্রায় পাকা। বাকি দলে খুব একটা পরিবর্তন নেই। প্র্যাকটিসে বেশ কিছুক্ষণ সেট পিস মুভমেন্টের উপর জোর দিলেন বাগান কোচ। লাজংয়ের অধিনায়ক স্যামুয়েলের ফ্রিকিক মারার দক্ষতার কথা মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা। নিজেদের ডিফেন্সকে ভালভাবে ঝালিয়ে নিলেন তিনি।
[শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে গোল, পাহাড় টপকে সুপার কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল]
প্র্যাকটিসের পর অন্যতম সিনিয়র শিল্টন পাল হোন, বা কোচ। দু’জনই জোর দিলেন দলগত সংহতিতে। শিল্টন বলছিলেন, “শেষ কয়েকবছর ধরেই ড্রেসিংরুমের একতা আমাদের অন্যতম শক্তি। যে যেখানেই যাক, সবার ফোকাস কিন্তু সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। নিজেদের দোষে আই লিগ হাতছাড়া করেছি। এখানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সমর্থকদের কষ্ট ভোলাতে চাই।” শংকরলাল বলছিলেন, “ছেলেদের সঙ্গে বারবার কথা বলছি। ওদের বোঝানো হয়েছে ফুটবলের প্রতি সৎ না থাকলে নিজেদেরই ক্ষতি। তাই কে দল ছাড়ছে, সেটা কোনও ফ্যাক্টর করছে না আমাদের মধে্য।”
এমনিতে ভুবনেশ্বরের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি। তবে প্রায় রোজই বিকেলে বৃষ্টি এসে পরিবেশ মনোরম করে দিচ্ছে। মোহনবাগান ড্রেসিংরুম আবার আজ বৃষ্টি যাতে না হয় সেই প্রার্থনাই করছে। এমনিতে লাজং পাহাড়ের দল। ভুবনেশ্বরের গরমে তাদের কিছুটা সমস্যা হওয়ারই কথা। তাই এই প্রার্থনা।
The post লাজংকে ডরাচ্ছেন না ডিকারা, ড্রেসিংরুমের একতাই শক্তি মোহনবাগানের appeared first on Sangbad Pratidin.
