আপনার চশমাটি কি অজান্তেই আপনার ব্যক্তিগত জীবন ফাঁস করে দিচ্ছে? আপনি যখন ড্রেস চেঞ্জ করেন, স্নানে যান কিংবা বিছানায় সঙ্গীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন, সেই সব দৃশ্য কি পৌঁছে যাচ্ছে সাত সমুদ্র তেরো নদী পারের কোনও অচেনা মানুষের কম্পিউটারে? সম্প্রতি এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই বিস্ফোরক তথ্য। মেটা এআই স্মার্ট চশমার মাধ্যমে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ এখন কেনিয়ার প্রযুক্তি কর্মীদের হাতে। এমনটাই জানা যাচ্ছে রিপোর্টে।
ছবি: সংগৃহীত
সুইডিশ সংবাদপত্র গুটেনবার্গস-পোস্টেন এবং সভেনস্কা ডাগব্লাডেট-এর একটি যৌথ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটার তৈরি রে-ব্যান স্মার্ট চশমার ফুটেজ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে অবস্থিত 'সামা' নামক একটি ঠিকাদারি সংস্থার কর্মীদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এই কর্মীরা মূলত 'ডেটা অ্যানোটেটর' হিসেবে কাজ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলকে আরও উন্নত করতে এই ভিডিওগুলি দেখে সেগুলিকে লেবেল বা চিহ্নিত করাই তাঁদের কাজ।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কেনিয়ার ওই কর্মীরা গ্রাহকদের ব্যক্তিগত জীবনের অতি গোপনীয় মুহূর্তগুলো দেখতে পাচ্ছেন। এক কর্মী জানিয়েছেন, তাঁরা বসার ঘরের চা পান থেকে শুরু করে বেডরুমে নগ্ন শরীর— সব কিছুই দেখছেন। এমনকী শৌচাগারে যাওয়ার দৃশ্য বা সঙ্গমের দৃশ্যও তাঁদের নজর এড়াচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক কার্ডের তথ্যও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। পরিচয় গোপন রেখে এক কর্মী বলেন, "আমরা সবকিছুই দেখতে পাই। আমার মনে হয় ব্যবহারকারীরা জানেনই না যে তাঁদের এই ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো রেকর্ড হচ্ছে। জানলে হয়তো তাঁরা এমনটা করতেন না।"
ছবি: সংগৃহীত
মেটা অবশ্য দাবি করে আসছে যে, এই চশমাগুলি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের প্রাইভেসী পলিসিতে অস্পষ্টভাবে বলা রয়েছে যে, এআই-এর সঙ্গে ব্যবহারকারীর কথোপকথন বা মিথস্ক্রিয়া মানুষের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নামে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে এই অনুপ্রবেশ ভয়ানক। কেনিয়ার কর্মীরা জানিয়েছেন, কাজ হারানোর ভয়ে তাঁরা এই ধরনের দৃশ্য দেখতে বাধ্য হন। মুখ খুললেই চাকরি যাওয়ার ভয় থাকে। ২০২৫ সালে মেটা প্রায় ৭০ লাখ এই স্মার্ট চশমা বিক্রি করেছে। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রার আড়ালে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কতটা সুরক্ষিত, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার ‘স্মার্ট’ চশমা কি তবে আপনার গোপনীয়তার সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠছে? উত্তর খুঁজছে বিশ্ব-প্রযুক্তি।
