গ্রীষ্মকালের অন্যতম সমস্যা— বাড়ির এদিক সেদিক লাল পিঁপড়ের সারি! তারা যে কেবল হেঁটে চলেছে, তাই নয়। বয়ে নিয়ে চলেছে খাবার। কার? গৃহস্থেরই! হয়তো বিস্কুটের প্যাকেট রেখে ভুলে গিয়েছেন, পিঁপড়েরা হানা দেবে তাতে। প্যাকেট খুলে রাখারও দরকার নেই, ইচ্ছেমতো ফুটো করে ঢুকে যাবে ভিতরে! আর তাতে হাত লেগে গেলেই, মোক্ষম কামড়! খাবারের কণা হয়ে বিছানায় রয়ে যায় ভুলক্রমে, তাহলে আর রক্ষে নেই! সে যাত্রা ঘুমের দফা রফা হবেই!
পিঁপড়ে তাড়াতে কী করা যায় তবে (keep away ants)? বাড়িতে ছোট শিশু অথবা পোষ্য থাকলে পিঁপড়ে মারার ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো। অসাবধানতাবশত বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। তাই বরং কাজে লাগানো যাক ঘরোয়া টোটকা। কীভাবে? বলা রইল বিশদে।
দারুচিনির গুঁড়ো। পাতিলেবুর রস।
দারুচিনির সঙ্গে পিঁপড়েদের সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়! এর তীব্র গন্ধে পিঁপড়ে টিকতে পারে না। ফলে পিঁপড়ের চলার পথে ছিটিয়ে দেওয়া যায় দারুচিনির গুঁড়ো। অথবা দারুচিনি তেলে গুলে, তাতে তুলো ভিজিয়ে রেখে দিন ঘরের আনাচে কানাচে। দিনকতক এই তুলো বদলে বদলে দিন। পিঁপড়েরা গৃহস্থের ঘর ছাড়তে বাধ্য!
এই গরমে রান্নাঘরে পাতিলেবু থাকবে না, তা কি হয়? লেবুর রস তো বটেই, স্রেফ খোসাও পিঁপড়েদের দূরে রাখতে কাজে দেয়। পিঁপড়ের হাঁটার পথে ছিটিয়ে দিতে পারেন লেবুর রস। খোসার টুকরো কেটে ঘরের কোন, খাবারের টেবিল, খাবার রাখার আলমারিতে এদিক সেদিক ছড়িয়ে দিন। এর টক গন্ধে তফাতে যাবে পিঁপড়ের দল।
সাধারণ লবণ। হোয়াইট ভিনিগার।
এ কাজে সবচাইতে সুনাম অবশ্য হোয়াইট ভিনিগারের। বোতলে অর্ধেক জল ও অর্ধেক পরিমাণ হোয়াইট ভিনিগার মিশিয়ে নিন, স্প্রে করুন পিঁপড়ের চলার পথে। প্রথম দুদিন দিনে কয়েকবার সরে করতে থাকুন। চটজলদি রেহাই মিলবেই।
এত হ্যাপা না পোষালে অবশ্য আরও সহজ সমাধান রয়েছে রান্নাঘরেই। স্রেফ সাদা নুনেই হতে কেল্লা ফতে! পিঁপড়ের চলার পথে ছড়িয়ে দিন নুন। চাইলে বেকিং সোডাও মিশিয়ে দিতে পারেন তার সঙ্গে। পিঁপড়ে প্রাথমিকভাবে সেই পথ এড়িয়ে চলবে। বারবার বাধাপ্রান্ত হলে আসাই বন্ধ করে দেবে সেই ঘরে।
