অন্ধকার কেটে এবার আলোর ছটা। তবে চোখের অস্ত্রোপচারে নয়, প্রযুক্তির ম্যাজিকে। দৃষ্টিহীনদের যাপনে এক নয়া দিগন্ত খুলে দিল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা। তাদের বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত স্মার্ট চশমা এখন প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনের দিশা বদলে দিয়েছে। যাঁরা চোখে দেখতে পান না কিংবা যাঁদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য এই রোদচশমা এখন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ। স্মার্টফোন পকেট থেকে বারবার বের করার ঝঞ্ঝাট এক লহমায় উধাও। সবকিছুই হবে হাত না ছুঁয়ে, ইশারায় আর গলার স্বরে।
এই চশমায় রয়েছে একগুচ্ছ দারুণ ফিচার। রে-ব্যান বা ওকলে-র মতো জনপ্রিয় আইওয়্যার ব্র্যান্ডের এই মেটা চশমায় শুধু একবার মুখ ফুটে বললেই হল, ‘হে মেটা, বি মাই আইজ’। ব্যস, সঙ্গে সঙ্গে আপনার কোনও কাছের মানুষের কাছে চলে যাবে ভিডিও কল। ফোনের স্ক্রিনে আঙুল ছোঁয়ানোর বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই। উলটোদিকে থাকা মানুষটি রিয়েল-টাইমে দেখে বলে দিতে পারবেন সামনে কী আছে। শুধু তাই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইনস্টাগ্রামের কল ধরা, কাটা কিংবা মিউট করার কাজও এখন স্রেফ গলার জোরেই সম্ভব। চশমার (Meta AI Glass) বোতামে একটা মৃদু ছোঁয়া দিলেই মেটা এআই আপনার চারপাশের পরিবেশের হুবহু বর্ণনা দিয়ে দেবে।
এই চশমায় রয়েছে একগুচ্ছ দারুণ ফিচার। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ কোনও না কোনও প্রতিবন্ধকতার শিকার। তাঁদের স্বাবলম্বী করতে এই প্রযুক্তি এখন মহৌষধ। ইরাক যুদ্ধে দৃষ্টি হারানো আমেরিকার প্রাক্তন সেনা ডোনাল্ড ওভারটন এখন এই চশমা পরেই রেস্তোরাঁর মেনু পড়ছেন। এয়ারপোর্টে একা একা হেঁটে চলে বেড়াচ্ছেন। আবার কোয়াড্রিপ্লেজিক নোয়া কারিয়ার হাত না নাড়িয়েই স্রেফ মুখের কথায় তুলে ফেলছেন দুর্দান্ত ছবি ও ভিডিও।
মেটা এখানেই থেমে নেই। অন্যান্য অ্যাপ প্রস্তুতকারকদের জন্যও তারা দরজা খুলে দিয়েছে। ফলে ‘ওরিয়ন’-এর মতো অ্যাপ এখন দৃষ্টিহীনদের ঘরের চাবি বা দরকারি জিনিস খুঁজে দিচ্ছে। রাস্তাঘাটের বাধা এড়াতে সাহায্য করছে। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মেটা এমন এক রিস্টব্যান্ড তৈরি করছে, যা পেশির সংকেত বুঝে কাজ করবে। স্পাইনাল কর্ডে চোট থাকা রোগীরাও স্রেফ হাতের ইশারায় ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। বিজ্ঞানের হাত ধরে জীবনযাপনের এই ভোলবদল সত্যিই রূপকথার মতো।
