অভিনেত্রী সোহা আলি খান (Soha Ali Khan) এবার সামনে আনলেন হৃদ্রোগের এমন এক ঝুঁকির কথা, যা লুকিয়ে থাকতে পারে জিনেই। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল— সব কিছু মেনে চলার পরেও তিনি জানিয়েছেন, জিনগত কারণে তাঁকে হার্ট নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
একটি ইউটিউব পডকাস্টে সোহা বলেছেন, আমার এলডি (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরল কম, এইচডিএল (HDL) বা ভালো কোলেস্টেরলও ভালো মাত্রায় রয়েছে। কিন্তু আমার শরীরে এমন একটি জিন রয়েছে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আমাকে সাধারণের তুলনায় আরও কম কোলেস্টেরল বজায় রাখতে হয়।
সোহার এই বক্তব্য যেন এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকেই সামনে আনল। শুধুমাত্র রিপোর্ট ভালো মানেই যে হৃদ্যন্ত্র সম্পূর্ণ নিরাপদ, এমনটা নয়। অনেক সময় সুস্থ জীবনযাপন করেও জিনগত কারণেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি থেকে যায়।
হার্ট নিয়ে বাড়তি সতর্ক সোহা। ছবি: সংগৃহীত
জিনে লুকিয়ে থাকা হৃদ্রোগের ঝুঁকি
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘জেনেটিক প্রিডিসপোজিশন’ বলতে বোঝায় এমন কিছু বংশগত বৈশিষ্ট্য, যা ভবিষ্যতে হৃদ্রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ, কোলেস্টেরল বা অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট স্বাভাবিক হলেও শরীরের ভেতরে ঝুঁকি নীরবে থেকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারে যদি হার্টের অসুখ, স্ট্রোক বা উচ্চ কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকে, তবে শুরু থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ জিনগত ঝুঁকির ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে সাধারণের তুলনায় আরও বেশি নজর দিতে হয়।
কোলেস্টেরল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কোলেস্টেরল শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও তার ভারসাম্য নষ্ট হলেই বিপদ। এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীর ভেতরে জমে রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। আর এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরল সেই অতিরিক্ত ফ্যাট শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে।
যাঁদের জিনগত ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণের তুলনায় আরও কম এলডিএল মাত্রা বজায় রাখার পরামর্শ দেন। সঙ্গে থাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
হার্টকে সুস্থ রাখতে জরুরি শরীরচর্চা। ছবি: সংগৃহীত
হৃদ্স্বাস্থ্যে ভরসা মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট
৪৭ বছর বয়সী সোহা জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্যকর খাবারের উপর জোর দেন। বিশেষ করে মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট তাঁর পছন্দের খাদ্যাভ্যাসগুলির অন্যতম। এই ডায়েটে গুরুত্ব দেওয়া হয়—
- টাটকা ফল ও সবজি
- সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার
- মাছ ও চিকেনের মতো লিন প্রোটিন
- অলিভ অয়েল ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই খাদ্যাভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
ছোট ছোট অভ্যাসই হতে পারে বড় সুরক্ষা
শুধু খাবার নয়, দৈনন্দিন জীবনযাপনও হৃদ্স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা নেয়। সোহার কথায়, তিনি রান্নার তেল নির্বাচন থেকে শুরু করে নিয়মিত শরীরচর্চা— সব কিছুতেই সচেতন থাকার চেষ্টা করেন।
সোহার প্রিয় মেডিটেরেনিয়ান ডায়েট। ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞদের মতে হার্টের সুস্থতার জন্য জরুরি—
- নিয়মিত শরীরচর্চা
- স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেছে নেওয়া
- সময়মতো রক্তপরীক্ষা
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
- পর্যাপ্ত ঘুম
কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদ্রোগ। তাই শুধু বাহ্যিকভাবে সুস্থ দেখালেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে পরিবারে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে আগেভাগে পরীক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
সোহা আলি খান সেই কথাই আবার মনে করিয়ে দিলেন, সুস্থ হৃদ্যন্ত্রের জন্য শুধু ডায়েট বা শরীরচর্চা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিজের শরীর ও পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়াও।
