এআই ধীরে ধীরে মানুষের সব সময়ের সঙ্গী হয়ে উঠছে। অনেকেই সঙ্গী ভেবে চ্যাট করেন এআইয়ের সঙ্গে। মনের কথা উজাড় করে দেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে। এখানেই শেষ নয়। যৌনতায় ভরা চ্যাটও করেন অনেকেই। আর সেকথা মাথায় রেখে চ্যাটজিপিটি 'এরোটিক মোড' চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এবার পিছিয়ে গেল তারা। সিদ্ধান্ত নিল আপাতত এই মোড চালু করা হবে না। অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা স্থগিত রাখা হচ্ছে।
জানা গিয়েছিল, স্যাম অল্টম্যানের নেতৃত্বাধীন সংস্থা ‘নটি চ্যাট’ নামের একটি ফিচার আনছে। যেখানে আরও রগরগে ভাষা ব্যবহার করা যাবে। যা ঘনিষ্ঠতার আনন্দ বাড়িয়ে তুলবে। গত বছরের অক্টোবরে এই সংক্রান্ত প্রথম ঘোষণাটি করেছিলেন অল্টম্যান। পরবর্তী মাসগুলিতে বারবার চর্চা চলতে থাকে বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু এবার পিছিয়ে গলেন অল্টম্যান। ওপেনএআই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওই ফিচার তারা আনবে না।
চ্যাটজিপিটি 'এরোটিক মোড' চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এবার পিছিয়ে গেল তারা। সিদ্ধান্ত নিল আপাতত এই মোড চালু করা হবে না। অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা স্থগিত রাখা হচ্ছে।
কিন্তু কেন? ওপেনএআইয়ের পরামর্শদাতা কাউন্সিল আসলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এহেন ফিচার নিয়ে। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের ফিচার থেকে আসক্তি সৃষ্টি হতে পারে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপরে মানসিক অতি-নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। প্রসঙ্গত, এলন মাস্কের গ্রকে কিন্তু এমন মোড রয়েছে। যদিও তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। এমনকী এক্স হ্যান্ডলে বহু ইউজার মহিলাদের নগ্ন ছবি তৈরি করেছেন গ্রকের সাহায্যে এই অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গেও উঠেছে। ওপেনএআইয়ের পিছিয়ে আসার ক্ষেত্রে কি এই বিতর্কও কাজ করেছে? প্রশ্ন থেকে যায়।
বলে রাখা ভালো, অল্টম্যানের সংস্থার সময়টা ভালো যাচ্ছে না। আর্থিক দিক থেকে কোণঠাসা ওপেনএআই। চলতি বছরে তাদের প্রায় ১৪০০ কোটি ডলার লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারের শেয়ার ৬৯ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৫ শতাংশে। চ্যাটজিপিটি ছেড়ে এখন মানুষ ক্লড বা অন্যান্য উন্নত এআই-এর দিকে ঝুঁকছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকায় প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি গ্রাহক তাঁদের চ্যাটজিপিটি সাবস্ক্রিপশন বাতিল করেছেন। এমতাবস্থায় কোনও বিতর্কিত পদক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকলেন অল্টম্যান।
