মধ্যরাতে শুটিং থেকে ফেরার সময় চরম হেনস্তার অভিযোগ শ্রীময়ী চট্টোরাজের। গাড়ি থামিয়ে নাকা-চেকিংয়ের সময় তাঁর সঙ্গে চরম দুর্বব্যবহার করা হয় বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শ্রীময়ীর বক্তব্য, নির্বাচনের প্রাক্কালে নাকা চেকিং খুব স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু, কাঞ্চনের গাড়ির সামনে লাগানো বোর্ড আর সেমি কালো কাচের জন্যই এতটা হেনস্থা? শনিবার রাত ১১ টার পর সোশাল মিডিয়ায় 'বিধ্বস্ত' অবস্থায় একটি ভিডিও শেয়ার করে জনিয়েছেন, সেখানে কোনও মহিলা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন না তবুও তাঁর ব্যাগ থেকে সব কিছু প্রকাশ্যে বের করে দেখা হয়। বাদ যায়নি অন্তর্বাস থেকে শুরু করে স্যানিটারি ন্যাপকিনও। ব্যাগে থাকা মেডিসিন বক্স দেখিয়ে যখন বলেছেন, তিনি অসুস্থ তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে শুনতে হয়েছে 'নাটক করছেন।' মধ্যরাতে মাঝরাস্তায় নাকা চেকিংয়ের নামে একজন মহিলার সঙ্গে দুর্ব্যবহারে প্রচণ্ড বিরক্ত কাঞ্চন পত্নী।
তিনি জানান, "টলিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বাঁদিকে ঘুরতেই দেখলাম নাকা চেকিং হচ্ছে। ওখানে উপস্থিত এসআই আমার গাড়িচালককে গাড়ি থামাতে বলেন। আমি তখন বললাম শুটিং থেকে ফিরছি, বেআইনি কিছু আমার গাড়িতে নেই। তবুও উনি বললেন, এটা আমার ডিউটি, চেক করতে হবে। তখন আমি আর কিছু বলিনি, সত্যিই তো এটা ওঁর দায়িত্ব।" এই পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু, পর মুহূর্তের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে শ্রীময়ী মানবিকতার প্রশ্ন তুলে বলেছেন,"ইলেকশন কমিশনারেট বা উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক যেই হোক না কেন ন্যূনতম মানবিকতা থাকা প্রয়োজন। একজন মহিলার সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ কীভাবে করা যায়? তাঁদের বাড়িতেও তো মা-বোন আছে।"
অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে শ্রীময়ী বলেন, "মেক আপ কিটটা যেহেতু একটু বড় ছিল ওখানে উপস্থিত এসআই বলছেন, এই ব্যাগটার মধ্যে পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকতে পারে, ভালো করে চেক কর।"
১১ এপ্রিল শনিবার ঠিক কী ঘটেছে শ্রীময়ীর সঙ্গে? ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছেন, "আমার শুটিংয়ের ব্যাগ খুলে ফেলা হল। যার মধ্যে মার মেকআপ কিট, অন্তর্বাস, স্যানিটারি ন্যাপকিন, জলের বোতল সহ আরও কিছু জিনিস ছিল। মেক আপ কিটটা যেহেতু একটু বড় ছিল ওখানে উপস্থিত এসআই বলছেন, এই ব্যাগটার মধ্যে পাঁচ-দশ হাজার টাকা থাকতে পারে, ভালো করে চেক কর। আমার প্রশ্ন, শুধু ব্যাগ কেন ফুল বডি চেক করুন কিন্তু, মহিলা পুলিশ কোথায়?" দায়িত্ব পালনের নামে এভাবে হেনস্থার মুখে শ্রীময়ী তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, মানুষের মুখ দেখে তাঁরা বুঝতে পারেন না কে মধ্যরাতে বেআইনি জিনিস পাচার করতে পারে বা কে খুনি-আসামি?
শনিবার মধ্যরাতের ভিডিওতে আরও জানান, "আমার ব্যাগে ওষুধের বক্স ছিল। আমি ওঁদের বললাম যে শরীরটা ভালো নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে বলা হল শরীর খারাপের নাটক করবেন না তো। এটা কোনও মানুষের ব্যবহার হতে পারে? আমার লাঞ্চ বক্স খুলে এমনভাবে দেখতে চাইল মনে হচ্ছে ওর ভিতর বোমা রয়েছে। কোন গাড়িতে কী থাকতে পারে সেটা ওঁরা বুঝতে পারে না? এই ব্যবহারটা আমি সত্যিই মেনে নিতে পারছি না। আগে মানবিকতা, তারপর দায়িত্বপালন।"
