২৯ মার্চ 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে তালিসারির সমুদ্র কেড়ে নিয়েছে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণ। একজন প্রতিভাবান তরুণ অভিনেতার অকাল মৃত্যুতে তোলপাড় বাংলা সিনেদুনিয়া। রাহুলের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবিতে রাজপথে নামতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি ইন্ডাস্ট্রির স্বজনেরা। 'ম্যাজিক মোমেন্টস' প্রযোজনা সংস্থাকে বয়কট করেছে টলিপাড়ার শিল্পীরা। এখানেই শেষ নয়, রাহুল ও তাঁর পরিবারকে ন্যায় বিচার পাওয়ানোর লক্ষ্যে কর্মবিরতির ডাক পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল। এরপর ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন সংস্থার হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে টলিপাড়া। তবে উক্ত প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে দুটি ধারাবাহিকের সঙ্গে বন্ধ ছিল আরও একটি মেগা 'কনে দেখা আলো' (Kone Dekha Alo)। এই সিরিয়ালের প্রযোজনায় লীনা পুত্র অর্কর অর্গানিক স্টুডিও থাকলেও গল্পের লেখিকা খোদ লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন লীনা ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়। এর ফলে সিরিয়ালের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হচ্ছিল জটিলতা। অবশেষে রাহুলের মৃত্যুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর খুলল সমস্যার জট। নতুন আসার আলো দেখছে এই ধারাবাহিক তা বলে অত্যুক্তি হবে না।
কলাকুশলীদের স্বার্থে জি বাংলার নিজস্ব প্রযোজনায় এই ধারাবাহিকের সম্প্রচার হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। মেগার চিত্রনাট্যও নাকি লেখার পরিকল্পনা করেছিল চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। অবশেষে প্রকাশ্যে এল সত্য। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানান, 'রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায় এর অকাল প্রয়াণের পরবর্তী কালে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলাম সে সম্পর্কে আপনারা সকলেই অবগত। 'কনে দেখা আলো' প্রযোজনাটির সম্পর্কে সম্প্রতি আমরা চ্যানেলের (জি বাংলা) সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করি। আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলা যায়। ওঁরা আমাদের শর্তাবলী মেনে নিয়েই প্রযোজনাটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই ওঁদের মতামত জানিয়েছেন এবং সাতদিনের মধ্যে ফোরাম প্রদত্ত শর্তাবলীর সপক্ষে সমস্ত প্রমাণ সহ উপযুক্ত নথি পাঠানোর ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন।'
আর্টিস্ট পোরামের বিবৃতিতে লেখা, 'রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায় কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি, প্রতিবাদ করেছে। তেমনি ও ইন্ডাস্ট্রিতে আরও কাজ হোক, সুষ্ঠু ভাবে কাজ হোক নিরন্তর চেয়েছে। আমরা ওঁর মতাদর্শকে সম্মান করি।'
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'এই পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত প্রযোজনাটিতে (কনে দেখা আলো) আমাদের সংগঠনের শিল্পীদের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা অসুবিধে রইল না। রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায় কখনও অন্যায়ের সাথে আপোষ করেনি, প্রতিবাদ করেছে। তেমনি ও ইন্ডাস্ট্রিতে আরও কাজ হোক, সুষ্ঠু ভাবে কাজ হোক নিরন্তর চেয়েছে। আমরা ওঁর মতাদর্শকে সম্মান করি। পরিস্থিতির চাপে আমাদের কর্মবিরতিতে যেতে হয়েছিল অযথা কাজের ক্ষেত্রে কোন রকম অসহযোগিতা করা আমাদের নীতি বিরুদ্ধ, মতবিরুদ্ধ। এ কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে আমাদের কোনো বাধা নেই। আসুন সকলে মিলে কাজের পরিবেশকে সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করি।'
