পাহাড়ের গায়ে কুয়াশার আনাগোনা। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা। আর এক চিলতে নির্জনতা। পাহাড়ি প্রেমের এমন ক্যানভাসে মন হারায়নি, এমন ভ্রমণপিপাসু খুঁজে পাওয়া ভার। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলেছে ওয়েব সিরিজ 'মুসাফির ক্যাফে' (Musafir Cafe)। সুধা, চন্দর আর প্রীতির প্রেমের রসায়ন যেমন মন ছুঁয়েছে, তেমনই দর্শকদের নজর কেড়েছে পাহাড়ের কোলে গড়ে ওঠা ওই একফালি ক্যাফে। পর্দায় দেখা সেই ক্যাফে কি শুধুই শুটিংয়ের সেট, নাকি বাস্তবেও রয়েছে তার অস্তিত্ব?
ছবি: সংগৃহীত
মুসাফির ক্যাফে কোনও কৃত্রিম সেট নয়। এটি সশরীরে বিরাজ করছে উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে। সিরিজের পর্দায় এটিকে ক্যাফে হিসেবে তুলে ধরা হলেও, আদতে এটি একটি সুপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী 'হোমস্টে'। পাহাড়ের কোলে নির্জনে সময় কাটানোর জন্য পাহাড়প্রেমীদের কাছে এ এক আদর্শ ঠিকানা।
ছবি: সংগৃহীত
কোথায় পাবেন 'তারে'?
মুসৌরির ঝাড়িপানি এলাকায় অবস্থিত এই হেরিটেজ প্রপার্টির আসল নাম 'ঝাড়িপানি ক্যাসেল' (Jharipani Castle)। সবুজ ছাদযুক্ত কাঠামো, কাঠের সুদৃশ্য কটেজ, উপত্যকামুখী বিশাল টেরেস আর রঙিন প্রার্থনার পতাকায় সাজানো চারপাশ— ঠিক যেমনটি দেখা গিয়েছে ওয়েব সিরিজে। বর্তমানে মিস্টার এবং মিসেস বহরির মালিকানাধীন এই হোমস্টেতে কাটাতে পারেন আপনার পরবর্তী পাহাড়ি ছুটি।
ছবি: সংগৃহীত
এই ক্যাসেলের বিশেষত্ব কী?
এই ক্যাসেলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯৩২ সালে ক্রাউন ব্রিউওয়ারিজ এটি নির্মাণ করে। শুরুর দিকে সেনাকর্তা ও উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ অফিসারদের গেস্ট হাউস হিসেবে এটি ব্যবহৃত হত। কালক্রমে হাতবদল হয়ে আজ তা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়। পুরনো আমলের স্থাপত্য ধরে রেখেই এটিকে আধুনিক হোমস্টেতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এখানে এলে ব্রিটিশ আমলের এক অদ্ভুত নস্ট্যালজিয়া অনুভব করা যায়।
খরচপাতি কেমন?
ঝাড়িপানি ক্যাসলে থাকার জন্য রয়েছে একাধিক বিকল্প। বাজেট এবং পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন ডিলাক্স, সেমি ডিলাক্স, ভিলা স্যুট, কিংবা রোমান্টিক লগ হাট। প্রতি রাতের জন্য ঘরের ভাড়া শুরু হচ্ছে আনুমানিক ৬,৪০০ টাকা থেকে, যা ক্যাটাগরি ভেদে ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, সাহিত্যিক দিব্য প্রকাশ দুবের জনপ্রিয় উপন্যাস 'মুসাফির ক্যাফে' অবলম্বনে রুচির অরুণ পরিচালনা করেছেন এই সিরিজটি। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বিক্রান্ত ম্যাসি, বেদিকা পিন্টো এবং মহিমা মাকওয়ানা। পর্দায় দেখা সেই মায়াবী পরিবেশ নিজের চোখে উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতেই পারেন মুসৌরির এই ঐতিহ্যবাহী ঠিকানায়।
