তিলোত্তমার বুকে এক টুকরো কেরল। আরব সাগরের নোনা হাওয়া আর নারকেল বীথিকার সবুজ আবেশ এখন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের দরবার হলে। আজ অর্থাৎ শুক্রবার সেখানে শুরু হল বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘লেনস্কেপ কেরালা’। কেরালার পর্যটন দপ্তর এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উঠে এসেছে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের নিসর্গ, সংস্কৃতি ও জনজীবনের এক অনন্য কোলাজ।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ভিক্টোরিয়ার সচিব ও কিউরেটর ড. সায়ন ভট্টাচার্য।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের সচিব ও কিউরেটর ড. সায়ন ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগ দুই রাজ্যের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে দেশীয় পর্যটনকে উৎসাহ দিতেও এই প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ভারতের ১০ জন প্রথিতযশা ট্রাভেল ও মিডিয়া ফটোগ্রাফারের তোলা ১০০টি ছবি এই গ্যালারির মূল আকর্ষণ।
প্রদর্শনীর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে কেরালার গহন অরণ্য, শান্ত ব্যাকওয়াটার এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের আখ্যান। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শিল্পীরা কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে এই মায়াবী মুহূর্তগুলি লেন্সবন্দি করেছেন। বিশিষ্ট শিল্প সমালোচক উমা নায়ারের কিউরেশনে এবং আলোকচিত্রী বালান মাধবনের তত্ত্বাবধানে এই আয়োজন এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। ছবিতে ধরা পড়েছে কেরালার উৎসব, আধ্যাত্মিকতা, বন্যপ্রাণী এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের টুকরো ছবি।
কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে শিল্পীরা এই মায়াবী মুহূর্তগুলি লেন্সবন্দি করেছেন।
অংশগ্রহণকারী আলোকচিত্রীদের তালিকায় রয়েছেন সৈবাল দাস, সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, কাউন্তেয় সিনহা, ঐশ্বর্য শ্রীধর, শিবাং মেহতা ও অমিত পাসরিচার মতো বিশিষ্ট নাম। কলকাতার আগে এই প্রদর্শনী দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই-সহ দেশের একাধিক শহরে সমাদৃত হয়েছে।
আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দরবার হলে এই প্রদর্শনী চলবে। চিত্রপ্রেমীদের জন্য বাড়তি পাওনা হিসেবে থাকছে এক বিশেষ মাস্টারক্লাস। ২৮ মার্চ দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত এই ক্লাসে অংশ নেবেন বালান মাধবন, মনোজ অরোরা ও সৈবাল দাসের মতো অভিজ্ঞ শিল্পীরা। ছুটির আমেজে কেরালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ডুব দিতে ভিক্টোরিয়ার এই প্রদর্শনী পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এক সুবর্ণ সুযোগ।
