পাহাড়ি বাঁক ধরে কু-ঝিকঝিক টয় ট্রেনে চেপে ভ্রমণের রোমাঞ্চ তো রয়েইছে। যদি সেই ট্রিপে পাইন বন ছাড়িয়ে ট্রেক করে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ মিলে যায়। কী ভাবছেন কল্পনা? মোটেও না। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ওই সুযোগ পর্যটকদের হাতের মুঠোয় এনে দিতে 'কার্শিয়াং-মহানদী সানরাইজ স্পেশাল সার্ভিস' চালু করেছে। আপাতত চাহিদার ভিত্তিতে সপ্তাহে একদিন রবিবার চলছে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (ডিএইচআর) এবং কার্শিয়াং বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে ওই ভ্রমণ কর্মসূচি পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে চলেছে। ট্যুর অপারেটর মহলে দাবি উঠেছে পরিষেবা নিয়মিত করার।
পাহাড়ে পর্যটন শিল্প বিকাশে তিনটি অভিনব টয় ট্রেন (Toy Train) পরিষেবা চালু করেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। ওই ট্রেনগুলোর একটি 'চা ট্রেন'। অন্যগুলোর একটি বিলুপ্ত হতে বসা 'স্টিম ইঞ্জিন' এবং অন্যটি 'কার্শিয়াং মহানদী সানরাইজ স্পেশাল সার্ভিস'। চা ট্রেন চলছে শনিবার ও রবিবার। একই দিনে চলছে স্টিম ইঞ্জিন এবং রবিবার 'কার্শিয়াং মহানদী সানরাইজ স্পেশাল সার্ভিস'। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের অধিকর্তা ঋষভ চৌধুরী জানান, ১৮৮০ সালে শিলিগুড়ি থেকে কার্শিয়ং পর্যন্ত প্রথম টয় ট্রেন পরিষেবা শুরুর ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে ২৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেছে। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে পর্যটকদের জন্য তিনটি পরিষেবা চালু করেছে। ডিএইচআর সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্শিয়াং বনবিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে চাহিদা ভিত্তিতে চার্টার টয় ট্রেন পরিষেবা কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত চলছে। এই রোমাঞ্চকর ভ্রমণ সুচিতে রয়েছে পাইন বনের মধ্য দিয়ে জঙ্গলের পথ। ট্রেন থেকে নেমে পাহাড়ি গাছগাছালির মধ্য দিয়ে ট্রেকিং।
ডাউহিলের প্রাচীনতম মঠগুলির একটি ঘুরে দেখা এবং বন দপ্তরের মিউজিয়াম ট্যাক্সিডার্মিতে বন্যপ্রাণী প্রদর্শনী দেখার সুযোগ। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের অধিকর্তা জানান, পাইন বনের মধ্য দিয়ে ট্রেকিং করা, মনোমুগ্ধকর সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা, পাহাড়ের প্রাচীনতম বৌদ্ধ বিহারগুলির মধ্যে একটিতে অবসর সময় কাটানো এবং তীক্ষ্ণ পাহাড়ি বাঁক ধরে খেলনা ট্রেনে চড়ার রোমাঞ্চ অনুভব করা সমস্ত কিছুই একদিনে সম্ভব হচ্ছে। জানা গিয়েছে, পর্যটকরা ৫০০ টাকা টিকিটের বিনিময়ে এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে পারছেন। যাঁরা সূর্যাস্ত দেখার পর গাড়িতে ফিরতে চান, তাদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। সেক্ষেত্রে মাত্র ৩৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে কার্শিয়াংয়ে ফিরে আসতে পারবেন। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের কর্ণধার সম্রাট সান্যাল বলেন, "এই সফর ইকো-ট্যুরিজমের এক অনন্য মিশ্রণ। পর্যটকদের কাছে খুবই লোভনীয় হয়েছে। এটা সপ্তাহে একদিন নিয়মিত হলে আরও ভালো হবে।"
