একটা সময় তিনি ছিলেন ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সদস্য। পরে সেখান থেকে বিধায়ক হন। এমনকী রাজ্যের মন্ত্রিপদও পান। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের সদস্য ছিলেন। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir), বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। এমনকী, কংগ্রেস, বিজেপি, তৃণমূল, রাজ্যের প্রধান তিন রাজনৈতিক দলেও ছিলেন।
একটা সময় হুমায়ুন ছোট ব্যবসা করতেন। সেই ব্যবসা এখন অনেকটাই বড়। এছাড়াও বিবিধ আয়ের উৎস রয়েছে তাঁর। কিন্তু সব মিলিয়ে হুমায়ুনের সম্পত্তি কত? তাঁর স্ত্রীই বা কতটা ধনী? বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জেলাশাসকের দপ্তরে রেজিনগর ও নওদা বিধানসভার প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। সেখানেই রয়েছে তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির খতিয়ান।
নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বার্ষিক আয় ১৩ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা। মূলত ব্যবসা এবং বেতন থেকে ওই রোজগার করেন আজপ সুপ্রিমো। তাঁর হাতে এই মুহূর্তে নগদ রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৫২ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও বিমায় তাঁর বিনিয়োগ ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা। হুমায়ুনের একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। টয়োটার ফর্চুনা গাড়িটির দাম প্রায় ৩৩ লক্ষ টাকা। সঙ্গে রয়েছে ৩৪.৫ গ্রাম সোনা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ৪৫ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৭৬ টাকা। মুর্শিদাবাদে একটি চাষযোগ্য জমি আছে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমোর। যার বাজার মূল্য ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা।
হুমায়ুনের সম্পত্তির খতিয়ান।
হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা সুলতানার মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৯৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৭৩ টাকা। এর মধ্যে তাঁর হাতে নগদ রয়েছে ৩ লক্ষ ৪৯ হাজার ৩৫৩ টাকা। ৬৩২.৫ গ্রাম সোনার মালিক হুমায়ুনের স্ত্রী মীরা। এই মুহূর্তে যার বাজারমুল্য প্রায় ৯৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। হুমায়ুনের স্ত্রী নিজে একটি বসতবাড়ির মালিক। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৯০ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে হুমায়ুন নিজে আড়াই কোটি টাকার বেশি এবং তাঁর স্ত্রী প্রায় ২ কোটির সম্পত্তির মালিক।
হুমায়ুন ২০১৭ সালে হিমালয়ান ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক পাশ করেন। সেটাই তাঁর সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা। তাঁর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানি-সহ চারটি মামলা রয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না এই হুমায়ুন কবীরই কিন্তু মুর্শিদাবাদের বুকে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করেছেন। কুখ্যাত ৩০-৭০ মন্তব্যের জেরে এখনও বিতর্ক চলে।
