মাঝ সমুদ্রে আতঙ্ক। জাহাজে ইঁদুর থেকে ছড়াল মারণ হান্তাভাইরাস। ভয়ংকর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। পাশাপাশি অসুস্থ আরও অনেকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ আফ্রিকা বিভাগের তরফে রবিবার এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভয়ংকর এই ঘটনা ঘটেছে আটলান্টিক মহাসাগরে। জাহাজে রয়েছেন প্রায় ২০০ জন যাত্রী। বর্তমানে জাহাজটি আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্ডেতে নোঙর করা হলেও, সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কায় যাত্রীদের সেখানে নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জানা যাচ্ছে, নেদারল্যান্ডের পতাকাধারী বিলাসবহুল এই ক্রুজটি গত ২০ মার্চ আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হয়েছিল। এরপর দক্ষিণে ধ্রুব এলাকা হয়ে আটলান্টিক পার করে ইউরোপের দিকে এগোচ্ছিল। পর্যটনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এই ক্রুজের গন্তব্য ছিল স্পেনের কাছের এক দ্বীপ। যা আটলান্টিক মহাসাগরে আফ্রিকার এক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। জাহাজটিতে ছিলেন ১৭০ জন যাত্রী, ৭১ জন ক্রু সদস্য। যাত্রাপথেই হঠাৎ হান্তাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ায়। ভাইরাসের প্রথম শিকার হন ৭০ বছরের এক ব্যক্তি। জাহাজেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দেহ দক্ষিণ আটলান্টিকে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয়।
ভাইরাসের প্রথম শিকার হন ৭০ বছরের এক ব্যক্তি। জাহাজেই মৃত্যু হয় তাঁর। স্ত্রীর সঙ্গে ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন তিনি। তাঁর দেহ দক্ষিণ আটলান্টিকে সেন্ট হেলেনায় নামানো হয়।
ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডে ফিরছিলেন। তবে বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর জাহাজেই অন্য আর একযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরই আতঙ্ক চরমে ওঠে। জানা যায় জাহাজে আরও ৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে একজনকে দক্ষিণ আফ্রিকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের জাহাজ থেকে বের করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কীভাবে ছড়াল এই ভাইরাস? আর্জেন্টিনার যে বন্দর থেকে জাহাজ ছেড়েছিল সেখানে এই ধরনের কোনও সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। এবং যেখানে যেখানে জাহাজ বন্দর করে সেখানেও কোনও সমস্যা ছিল না। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, জাহাজের ভিতর থেকেই ছড়িয়েছে এই সংক্রমণ। মারণ এই ভাইরাসের বাহক মূলত ইঁদুর। ১৯৯৩ সালে প্রথমবার হান্তাভাইরাসের তথ্য সামনে এসেছিল। এই ভাইরাসে তখন মৃত্যু হয় এক দম্পতির। এর কয়েকমাসের মধ্যেই অন্তত ৬০০ জনের মৃত্যু হয়। ইঁদুরের মল-মূত্র ও লালার সম্পর্কে এলে মানুষ হান্তাভাইরাসে সংক্রামিত হন। বিজ্ঞানীদের দাবি এই ভাইরাস করোনার চেয়েও বিপজ্জনক। আক্রান্ত হলে মৃত্যুর হার প্রায় ৩৮ শতাংশ।
