shono
Advertisement
China

এবার যুদ্ধ হবে তারায় তারায়! ড্রোন থেকে ভিনগ্রহে ঘাঁটি, তৈরি হচ্ছে চিন

২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠাতে চায় মানুষ। কিন্তু এইটুকুতেই আবদ্ধ নেই তাদের মহাকাশ-বিজয়ের স্বপ্ন।
Published By: Biswadip DeyPosted: 07:44 PM May 29, 2026Updated: 08:24 PM May 29, 2026

সেই কবে তৈরি হয়েছিল 'স্টার ওয়ার্স'। ১৯৭৭ সালে জর্জ লুকাস নির্মিত সেলুলয়েডের মহাকাব্য মন জিতেছিল সকলের। পরবর্তী সময়ে তা জন্ম দিয়েছে একের পর এক সিনেমার। কিন্তু সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঝলকানি কেবলই কল্পনার জগতে আর সীমাবদ্ধ নেই। অদূর ভবিষ্যতেই তা বাস্তব করে তুলতে পারে চিন। বেজিং এখন সত্যিই আকাশ পেরিয়ে মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখছে। ড্রোন থেকে শুরু করে পৃথিবীর বাইরে ঘাঁটি গড়ার মতো নানা প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্ন দেখছে চিন (China)।

Advertisement

আপাতত লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে মানুষ পাঠানো। সেই লক্ষ্যে গত ২৪ মে এক নভশ্চরকে স্পেস স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। এক বছরের জন্য সে ওখানেই থাকবে। এই পদক্ষেপও আসলে চাঁদে মানুষ পাঠানোরই এক খুচরো পদক্ষেপ। ডেডলাইন ছুঁতে আর চার বছরও বাকি নেই। এখনও অনেক প্রস্তুতি বাকি। ফলে চ্যালেঞ্জটা যথেষ্ট বড়ই। পৃথিবীর নিম্ন-কক্ষপথে অবস্থিত ‘তিয়াংগং’ মহাকাশ স্টেশনের অপেক্ষাকৃত নিরাপত্তার পরিবেশে অভ্যস্ত চিনা নভোচারীরা যেন নিরাপদে ও সফলভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণের মতো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ধাপটি অতিক্রম করতে পারেন, সেটাই লক্ষ্য।

২০৩০ সালের আগেই চাঁদে একটি সফল মনুষ্যবাহী যানের অবতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হলে, তা রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের চিনা পরিকল্পনাকে আরও জোরদার করে তুলবে।

চিন এখনও পর্যন্ত চাঁদে কেবল রোবটই পাঠিয়েছে। তবে তাদের একের পর এক সফল 'শেনঝৌ' অভিযানগুলি দেশটির মহাকাশ গবেষণার সক্ষমতা প্রমাণ করে দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসে, চিনই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রোবটের সহায়তায় চাঁদের 'দূরবর্তী পৃষ্ঠ' থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। যদি ২০৩০ সালের আগেই চাঁদে একটি সফল মনুষ্যবাহী যানের অবতরণ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবে তা রাশিয়ার সঙ্গে মিলে ২০৩৫ সালের মধ্যে চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের চিনা পরিকল্পনাকে আরও জোরদার করে তুলবে।
এদিকে মহাকাশে এখনও পর্যন্ত কোনও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্ষম ড্রোন উৎক্ষেপণ করেনি চিন। কিন্তু হাইপারসনিক ড্রোন তৈরি করে সফল পরীক্ষাও করতে পারা গিয়েছে। এখনই চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম কক্ষপথ থেকে ডজন ডজন ড্রোন মোতায়েনে সক্ষম।

কিন্তু এটুকুতেই সন্তুষ্ট নয় বেজিং। তারা চাইছে এক বিরাট ত্রিভুজাকার মহাকাশযান বায়ুমণ্ডলের প্রান্তে মোতায়েন করতে। একে বলা হচ্ছে 'লুয়াননিয়াও'। যার বাংলা অর্থ 'দিব্য পাখি'। যানটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০০ ফুট এবং ওজন ১,২০,০০০ টন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যা সর্বাধিক ৮৮টি পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় স্টেলথ ড্রোন মোতায়েন করতে সক্ষম হবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বিশাল এক মহাকাশযান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় চালিকাশক্তি এবং নির্মাণসামগ্রী এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। তাই এমনটা এখনই করা সম্ভব নয়। কিন্তু কাজ চলছে। যদি শেষপর্যন্ত এমন করা সম্ভব হয়, তাহলে সেখান থেকে মহাকাশকে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষাই নয়, বরং পৃথিবীতে ড্রোনগুলিকে 'রিচার্জ' করে দিয়ে দ্রুত তার সাহায্যে মিসাইল ছোড়াও সম্ভব হবে। যা কার্যতই 'ফিউচার ওয়ার' বা ভবিষ্যতের যুদ্ধের রূপরেখা ফুটিয়ে তুলবে। আপাতত সেই স্বপ্নেই বিভোর শি জিনপিং প্রশাসন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement