যুদ্ধবিরতি চলছে ঠিকই, তবে শোনা যাচ্ছে চুক্তির পথে না হাঁটলে যে কোনও মুহূর্তে ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছতে ৫টি শর্ত দেওয়া হল আমেরিকার তরফে। যেখানে, ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধের দাবি থেকে সরে এসে একটিমাত্র পরমাণুকেন্দ্র চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে তেহরানকে।
শুরুতে আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। তবে আমেরিকার সেই দাবি পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছিল ইরান। এই অবস্থায় ইরানকে বাগে আনতে কিছুটা নরম হতে দেখা গেল আমেরিকাকে। রবিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা যে ৫ শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরানকে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকা যে ৫ শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরানকে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি বাকি যে ৪টি শর্ত দেওয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধের জেরে ইরান যে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল আমেরিকার কাছে, তা কোনওভাবেই দেওয়া না। দাবি অনুযায়ী, ইরানকে ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে হবে। এছাড়া আমেরিকা ইরানের যে বৈদেশিক সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে তার ২৫ শতাংশও ছাড়া হবে না। এছাড়া সব ক্ষেত্রে আলোচনার ফলাফলের ভিত্তিতে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি লাগু হবে। তবে আমেরিকার দেওয়া এই শর্ত ইরান মানবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, ইরানের তরফে যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, যুদ্ধের অবসান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বাজেয়াপ্ত করা ইরানের বৈদেশিক সম্পদে ছাড় এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি।
উল্লেখ্য, ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু বোমা তৈরির অভিযোগ তুলে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইরান। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন এপিক ফিউরি। এর পালটা ইরানের তরফে হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ায় গোটা বিশ্ব জ্বালানি সংকটের মুখে পড়ে। এই অবস্থায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটে দুই দেশ। যুদ্ধবিরতি হলেও নতুন করে হামলার সম্ভাবনা এড়ানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি সে আভাস দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, “আমরা অন্য দেশের অনুরোধে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। আমি সত্যিই এর পক্ষে ছিলাম না। কিন্তু আমরা পাকিস্তানের অনুরোধেই মেনে নিয়েছিলাম। ওখানকার অসাধারণ মানুষ, ফিল্ড মার্শাল এবং প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে।” অর্থাৎ ইরান চুক্তির পথে না হাঁটলে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা। এই অবস্থায় পরিস্থিতি কোন পথে গড়ায় সেদিকেই নজর বিশ্বের।
