গত একমাসে হরমুজ প্রাণালীতে (Strait of Hormuz) একের পর এক পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এবার রাষ্ট্রপুঞ্জে সরব হল নয়াদিল্লি। ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে অসামরিক জাহাজ এবং নিরীহ নাবিকদের ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। হরমুজের বুকে এধরনের হামলা বরদাস্ত করা হবে না।
শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতনেনি হরিশ। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজগুলির উপর লাগাতার হামলা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য বিপদ ডেকে আনছে।” একইসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের অন্যান্য দেশগুলিকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তবে গোটা ভাষণে পর্বতনেনি নির্দিষ্ট কোনও দেশের কথা উল্লেখ করেননি।
অন্যদিকে, রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন পর্বতনেনি। সেখানে ভারতের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি লেখেন, ‘সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী ও কাঠামোগত পদক্ষেপের সমন্বয় অপরিহার্য। তবেই কোনও রফাসূত্র মিলতে পারে।’ পর্বতনেনি আরও লেখেন, ‘হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং নৌচলাচলের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আইন অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’
গত বুধবার ওমান উপকূলের কাছে ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যতরীতে হামলা হয়। এটি সোমালিয়া থেকে শারজার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। গবাদি পশু বোঝাই বাণিজ্যতরীটিতে মোট ১৪ জন নাবিক এবং ১৩ জন জাহাজ কর্মী ছিলেন। উত্তর উপকূলের কাছে লিমা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকা একটি বিস্ফোরক বস্তু জাহাজে আছড়ে পড়ে। এর পরই বাণিজ্যতরীটিতে আগুন লেগে যায়। তারপর সেটি সমুদ্রে ডুবে যায়। যদিও ঘটনায় নাবিক বা জাহাজকর্মীদের কোনও ক্ষতি হয়নি। তাদের উদ্ধার করে ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী। কিন্তু ঠিক কী বস্তু জাহাজটিতে আছড়ে পড়েছিল, তা জানা না গেলেও মনে করা হচ্ছে সেটি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র। এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দেয় কেন্দ্র। এবার হরমুজ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রে ভারতীয় জাহাজের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে সরব হল নয়াদিল্লি।
