সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা। ভয়ংকর এই হামলায় আগুন ধরে গিয়েছে আলো দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বরাকা পরমাণু কেন্দ্রটিতে। জানা যাচ্ছে, ওই পরমাণুকেন্দ্রের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে নিশানা করে হামলা চালায়টি। হামলায় হতাহতের কোনও ঘটনা না ঘটলেও, তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন (FANR) বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, হামলার পর ওখানকার তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে কার্যত বারুদের স্তূপে রয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এর আগে বহুবার ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে আমিরশাহীর তৈলভাণ্ডার ও জ্বলানি স্থাপনাগুলিতে। তবে আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতির জেরে নতুন করে আমিরশাহীতে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। সেখানে বরাকা পরমাণুকেন্দ্রে এই হামলা নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। কারণ পারমাণবিক স্থাপনার ওপর কোনও হামলা বড়সড় পরিবেশগত ও মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে। এর আগে আমিরশাহীর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি হামলা প্রতিহত করলেও এবার প্ল্যান্টের বাইরে হামলা চালাতে সক্ষম হয় ড্রোনটি।
ওই পরমাণুকেন্দ্রের বাইরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরকে নিশানা করে হামলা চালায়টি। হামলায় হতাহতের কোনও ঘটনা না ঘটলেও, তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে কে বা কারা এই হামলা চালাল তা এখনও স্পষ্ট নয়। আমিরশাহীর সরকার এই হামলার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে অনুমান করা হচ্ছে ইরান-সমর্থিত কোনো গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, বরাকা পরমাণুকেন্দ্রটি আরব বিশ্বের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখানকার ৪টি ইউনিট লাগাতার বিদ্যুৎ উৎপাদন চালিয়ে যায়। দাবি করা হয়, এই কেন্দ্রটি আমিরশাহীর মোট বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে।
