কোনও ডিগ্রি ছাড়াই ম্যাসাজ থেরাপিস্টের কাজ করতেন। তার আড়ালেই চলত লাগাতার যৌন নির্যাতন! শুধু তাই নয়, ম্যাসাজ পার্লারের আড়ালে চলত অশ্লীল ছবি তোলাও। বিস্ফোরক অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার এক ভারতীয়র বিরুদ্ধে। মাত্র ৯ মাসে তিনি অন্তত ৬১ জন মহিলাকে যৌন হেনস্তা করেছেন, এমনটাই জানা গিয়েছে। সবমিলিয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে ৯৭টি অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সি ওই ব্যক্তির নাম সুমিত সতীশ রাস্তোগি। আদতে দিল্লির বাসিন্দা সুমিত ২০১১ সালে পাড়ি দেন অ্যাডিলেডে। সেখানে তিনি ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন প্রমাণিত হয়, ম্যাসাজের কাজ করার কোনও প্রশিক্ষণ ছিল না সুমিতের। তা সত্ত্বেও প্রায় ১০ বছর কাজ করেছেন। সুমিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে। পরের বছর জুলাই মাসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু এইটুকু সময়ের মধ্যেই ৬১ জন মহিলাকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে সুমিতের বিরুদ্ধে।
মোট ৯৭টি অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারমধ্যে ৫৫টি অভিযোগ ছিল অশ্লীল ছবি তোলার। বাকিগুলো যৌন হেনস্তার অভিযোগ। গ্রেপ্তারির পর প্রায় চার বছর ধরে সুমিতের বিচারপ্রক্রিয়া চলে। অবশেষে সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক কারমেন মাতেও জানান, ম্যাসাজ করাতে আসা মহিলাদের আস্থা অর্জন করতেন সুমিত। তাঁরা কিছুটা সহজ হয়ে গেলে অন্তর্বাস খোলা এবং অশ্লীল ছবি তোলা শুরু করতেন তিনি। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার বোঝা দীর্ঘদিন বয়ে বেড়িয়েছেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন-এমনটাই জানিয়েছেন নির্যাতিতারা।
নির্যাতিতাদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ১৩ বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে সুমিতকে। এর মধ্যে প্যারোল পাবেন না তিনি। যেহেতু চার বছর ইতিমধ্যেই হাজতবাস করেছেন সুমিত, তাই ২০৩৫ সালের মধ্যে তাঁর কারাবাস শেষ হয়ে যাবে। তারপর তাঁকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হবে বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
